- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সমস্যায় জর্জরিত বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
জেলা সদরে অতি নিকটবর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। উপজেলার দেড় লক্ষাধিক জনবসতির সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালে ডাক্তার, নার্সসহ জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র নেই, বিশেষ করে স্যানিটেশন নাজুক। এভাবেই জোরাতালি দিয়ে চলছে হাসপাতাল।
জানা যায়  উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারি, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ড্রাইভার সহ জনবল সংকটে ভোগছে। রোগীর তুলনায় ঔষধপত্রও কম সরবরাহ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। সম্প্রতি ৪ জন ডাক্তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন বটে তবে ৩ জন ৬ মাসের ট্রেনিংয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে ইউএইচও ছাড়া পুরো উপজেলার চিকিৎসা সেবার জন্য ১ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। ডেলিভারীসহ গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ টি ওটি(অপারেশন থিয়েটার) থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে সার্জারীর কোন ডাক্তার না থাকায় লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের মেশিন ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন নার্স কর্মরত থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩ জন, ওয়ার্ডবয় ৩ জনের স্থলে আছেন ২জন, এমএলএসএস ২ জনের স্থলে আছেন ১ জন, প্রহরী ২ জনের স্থলে আছেন ১ জন, সুইপার ৫ জনের স্থলে আছেন ৩ জন। এ ছাড়া  স্বাস্থ্য সহকারি পদে ৬ টি, আয়া পদে ৩টি পদ শূন্য, ষ্টোর কিপার, ক্যাশিয়ার, ড্রাইভার, এক্সরে টেকনোলজিষ্ট, ল্যাব টেকনোলজিষ্ট এর পদ গুলো দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে সরকারি ১ টি এম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার না থাকায়  হাওলাতি লোক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
মুক্তিখলা গ্রামের নুরুল আমিন জানান, হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স স্বল্পতার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিরাট অভাব রয়েছে। নৈশপ্রহরি কম থাকায় ইতিপূর্বে হাসপাতালে কয়েকবার চুরি হওয়ায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যার শেষ নেই। ডাক্তার, স্বাস্থ্য সহকারি, ল্যাব টেকনোলজিষ্ট, এক্সরে টেকনোলজিষ্ট, নার্স, ওয়ার্ডবয়, এমএলএসএস, নৈশ প্রহরী, আয়া, ষ্টোরকিপার সহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তা ছাড়া কোয়ার্টার ও হাসপাতাল এলাকার স্যানিটেশনের অবস্থা খুবই খারাপ। সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে এগুলো মেরামত করে আসছি।’ তিনি আরো জানান হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ শতাধিক  রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীর তুলনায় সর্বরাহকৃত ঔষধের পরিমাণ কম থাকায় অনেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যান।

  • [১]