- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সময় সম্পর্কে ছিলেন খুব সচেতন

মো. আনোয়ার হোসেন
গতকাল সকালে সাড়ে ৯টার সময় ছাতকের অ্যাডভোকেট ছালাম আমাকে ফোন করেন। কোর্টে এসে মামলার শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। এই সময় সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাসুক আলম সাহেব বলেন, অ্যাডভোকেট ড. মফচ্ছির মিয়া ইন্তেকাল করেছেন। শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। তিনি আমার সরাসরি সিনিয়র না হলেও আমি তাকে সিনিয়র হিসাবে মনে করতাম। তিনি ও আমাকে খুব স্নেহ করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে বাসায় ডাকতেন। শেষ দেখা হয় রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি আমাকে ফোন করে বললেন জরুরি কাজ আছে বাসায় এসো। আমি বাসায় যাই। তিনি জানান, দেওয়ানে কার্যবিধি বিষয়ে একটি বই প্রকাশ করতে চান। পান্ডুলিপিটিও তিনি আমাকে দেখান। বইটি ছাপানোর বিষয়ে কথা বলেন। আমি তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিই। এই শেষ দেখা। আজ মনে অনেক স্মৃতি ভেসে উঠছে। কোনো আইনের বিষয়ে পরামর্শ প্রয়োজন হলে তাঁকে ফোন দিতাম। তিনি আমাকে অকপটে বুঝিয়ে দিতেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তাই ভারতেও গিয়েছিলেন। ভারতের ডাক্তার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেসনের জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্ত তিনি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেসন করাতে আগ্রহী ছিলেন না। যদিও টাকা পয়সার কোনো সমস্যা ছিল না। তিনি বলতেন, আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন তাতেই তিনি খুশি। প্রত্যেক সপ্তাহে তিনদিন সিলেট গিয়ে ডায়ালেসিস করাতেন। আমিও দুইদিন গিয়েছিলাম তাঁর সাথে। দেখেছি কত কষ্ট। তবুও তিনি হাসি মুখে থাকতেন। কোনোদিন ডায়ালেসিসের কষ্টের কথা কারও কাছে প্রকাশ করতেন না। সময় সম্পর্কে তিনি ছিলেন খুব সচেতন। কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হলে অনুষ্ঠান শুরুর ১০/১৫ মিনিট পূর্বে উপস্হিত থাকতেন। আর কোনো দিন দেখা হবে না সিনিয়রের সাথে — এই কথা মনে হলে অজানা বেদনায় মন কেঁপে উঠে। আল্লাহ্ সিনিয়রকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করবেন আমার প্রত্যাশা।
লেখক : আইনজীবী ও সাংবাদিক

  • [১]