- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সয়াবিন তেলের দরপতনের চারদিন/ ক্রেতারা এখনো বেশি দামেই তেল কিনছেন

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে সয়াবিন তেলের দরপতন হলেও সুনামগঞ্জে এখনো ক্রেতারা নতুন দামে তেল কিনতে পারছেন না। ঘোষণার ৪ দিন পরেও বাজারে আসে নি নতুন রেটের তেল। পুরনোগুলো বিক্রিতেই ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে এখনো চলছে পূর্বের মূল্যে তেল বিক্রি। নতুন রেটের মাল না আসা ও পুরাতন রেটের তেল রয়ে যাবার কারণে এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা। ভোক্তারা বলছেন, দাম বাড়ার ঘোষণা আসলে সাথে সাথে কার্যকর হয়, অথচ দাম কমার ৪ দিন পার হলেও তা কার্যকর হয়নি।
বিশ্ববাজারে দাম কমার পর দেশেও খোলা ও বোতলজাত—উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের দাম কমিয়েছে উৎপাদক ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো। এতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ১৮৫ টাকা। গত ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে সয়াবিন তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে জানা যায়, জগন্নাবাড়ি ও স্টেশন রোডের প্রায় সব দোকানে পুরাতন ২০০ টাকা লিটার গায়ের দামের তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা লিটার। পাঁচ লিটার তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯৪০ টাকা। বিভিন্ন পাড়া—মহল্লার দোকানে একই তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।
জগন্নাথবাড়ি রোডের মল্লিকা স্টোরের রিপন বলেন, ‘আমরা পুরাতন রেটের টাকা দিয়ে তেল কিনে আনছি। সেই তেল নতুন রেটে কিভাবে বেচবো। তারপরও লিটার প্রতি ১০ টাকা লস দিয়া বিক্রি করতেছি।’
লিটন ভেরাইটিজ স্টোরের মিল্টন বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকদিন তেল কিনি না। একসাথে কয়েকদিনের তেল কিনে রাখি। সেই তেলই এখনো রইছে। নতুন রেটে লস দিয়া বিক্রি করলে সেই ক্ষতিপূরণ দিবে কে?’
বাজারে তেল কিনতে আসা বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রেতা মির্জা ফারুক জানালেন, নতুন দামে কেউ তেল বিক্রি করতে চায় না। পুরো বাজার ঘুরে একটা দোকান থেকে নতুন দামে দুই লিটার তেল কিনতে পেরেছি। দায়িত্বশীলদের এই বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।
এনজিও কর্মী জিয়াউল হক বললেন, পুরো বাজার ঘুরে ১৯০ টাকা লিটারে কিনেছি তেল। এর চেয়ে কমে কেউ দেয় না। বাড়ানোর সময় সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা পণ্যেও দাম বাড়ায়, কিন্তু কমাতে হলে আইন প্রয়োগের আগে কমায় না।
আগের রেট বহাল বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লার দোকানেও। শহরের মল্লিকপুরের জেলা পরিষদের সামনের ভাই ভাই স্টোরে তেলের দাম জানতে চাইলে বোতলজাত তেলের লিটার ২০০ টাকা। আর প্যাকেট তেল ১৯০ টাকা জানালেন দোকানী।
এ বিষয়ে তীর কোম্পানির ডিলার সুজন তালুকদার জানান, সরকার নির্দেশ দিলেই হবে না। বডিতে যে রেট আছে সে রেটেই নিতে হবে।
তবে ভিন্ন কথা বললেন, ফ্রেশ কোম্পানির শফিকুল ইসলাম, তিনি বিক্রির ভাউচার দেখিয়ে বললেন আমরা ঘোষণার পর থেকেই কম রেটে বিক্রি করছি। ব্যবসায়ীরা লস খাবে, না কি ডিলার লস খাবে, সেটি দেখার বিষয় নয়। ক্রেতারা সঠিক দামে পেতে হবে।
ব্যবসায়ীদের সুরে তাল মেলালেন সুনামগঞ্জ ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আমরা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করছি, দ্রুত নতুন রেটের তেল দেওয়ার জন্য। নতুন রেটের তেল না পেলে রেটের অজুহাতে আগের রেটেই বিক্রি করবে। নতুন রেটের তেল আসলে আমরা তদারকি করবো, যে সেটা মানা হচ্ছে কি না।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো। এরপর ব্যবস্থা নেবো।

  • [১]