সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে প্রশাসনের একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা ৫০ নম্বরের এমসিকিউ অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সংসদ।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন দুর্জয় ও সাধারণ সম্পাদক নিমাই সরকার যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সিংহভাগ শিক্ষার্থীদের সামাজিক অবস্থা উপেক্ষা করে অনলাইন পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত অযুক্তিক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মফস্বল হাওর এলাকার নি¤œ আয়ের কৃষক পরিবার থেকে সরকারি কলেজের পড়াশুনা করছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চ মাস থেকে কলেজ বন্ধ হওয়ায় তারা গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন। এসকল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য উন্নত ডিভাইস নেই। এমন কি ইন্টারনেট কিনার টাকাও তাদের কাছে নেই।
কলেজ প্রশাসন সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনলাইন পরীক্ষা নেয়ার উচ্চাকাক্সক্ষী প্রত্যাশা সুনামগঞ্জ জেলায় সম্ভব নয় বলে নেতৃবৃন্দ বলেন, অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম থেকে ইতিমধ্যে অনেক কলেজ বিশ^বিদ্যালয় সরে এসেছে। উন্নত ডিভাইস সংকট ও গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের মন্থর গতির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান শিক্ষাথীদের মাঝে অস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে। ডিভাইস সংকট নিরসনের জন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ইতিমধ্যে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০ হাজার স্মার্ট ফোন বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রশাসন এদিকে নজর না দিয়ে তরিঘরি করে দায়সাড়া পাঠদান সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যা শিক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এমতাবস্থায় কলেজ প্রশাসনের এরকম সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরীক্ষার পরিবেশ তৈরি করার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি