সরকারি কলেজের বিশাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই, বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য। যেখানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করেন সেখানে পানীয় জলের সুবন্দোবস্থ না থাকার অর্থই হলো পাঠগ্রহণে তাদের মনোসংযোগ নষ্ট হওয়া। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সরকারি কলেজে পানির সংকট নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায় কলেজ ক্যাম্পাসে যে ডিপটিউবওয়েল রয়েছে শিক্ষার্থীরা সেটির কোন পানি পাচ্ছেন না। ডিপটিউবওয়েলের পানির সুবিধা পাচ্ছেন শুধু শিক্ষকরা। সম্ভবত ডিপটিউবওয়েল থেকে কোন সংযোগ লাইন কলেজের কমনরুমে রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য পানি সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থাও নেই। তাই পানীয় জলের জন্য শিক্ষার্থীদের হাহাকার ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের সমস্যা সবচাইতে বেশি বলে জানা যায়। কারণ ছাত্ররা এখানে-ওখানে গিয়ে পিপাসা মিটাতে পারলেও ছাত্রীদের পক্ষে সেটি সম্ভব হয়ে উঠে না। অবশ্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেছেন, পৌরসভার উদ্যোগে দুইটি টিউবওয়েল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সরকারি কলেজে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কয়েক হাজার। কলেজের পুরানো টিউবওয়েল সংস্কার সম্ভব না হলে কয়েকটি টিউবওয়েল বসানোর মতো টাকা কলেজের তহবিলেই থাকার কথা। দীর্ঘদিন যাবৎ এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ না করার বিষয়টিই দুঃখজনক।
পৌরসভার সহায়তায় যে দুইটি টিউবওয়েল স্থাপনের ব্যবস্থা হয়েছে, আমরা আশা করব কলেজ কর্তৃপক্ষ অচিরেই তা বাস্তবায়ন করবেন। কলেজ শিক্ষার্থীরা পানির জন্য কষ্ট পাবে অথবা তারা চায়ের দোকানে গিয়ে পানি পান করবে কিংবা দোকান থেকে বোতল কিনবে, এমন পরিস্থিতি আমাদের কাছে কাক্সিক্ষত নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা প্রধান চাহিদা। এই চাহিদার জায়গাটি পানির অভাব কিংবা অন্য কোন কারণে বাধাগ্রস্থ হোক তা আমরা চাই না। বিরাজমান সংকট নিরসনে তাই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুর্ধো জানাই।