- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সরকারি গোদামে ধান ক্রয় নাম অন্তভুর্ক্তির বিষয়টি জানেন না কৃষকরা

বিন্দু তালুকদার
জেলার ১১ উপজেলার এবার দুই লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আট লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত ফসলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৮’শ কোটি টাকা। তবে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙা পানিতে অকালে তলিয়েছে কাঁচা-পাকা বোরো ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি পানিতে তলিয়ে, শিলাবৃষ্টিতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকার ফসলের। তবে হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অন্তত হাজার কোটি টাকার।
ফসল হারিয়ে কৃষকরা যখন দিশেহারা তখন সরকার বোরো ধান সরকারিভাবে ক্রয় করার ঘোষণা দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করলো ২৩ টাকা কেজি দরে ৯২০ টাকা মণ হিসাবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কৃষক ও যাদের নামে কৃষি কার্ড রয়েছে তারাই কেবল সরকারি গোদামে ধান দিতে পারবেন। একজন কৃষক ৪০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩ মে. টন ধান বিক্রি করতে পারবেন সরকারি গোদামে। কৃষি বিভাগ থেকে সরকারি খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর সরকারি হারে ধান ক্রয় করবেন। গত ৫মে থেকে ধান-চাল ক্রয় অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান চাল ক্রয় অভিযান সম্পন্ন করতে শনিবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ফয়েজ আহমদ সিলেটের বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সভা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে ধান ক্রয় করার নির্দেশ দেন।
তবে কৃষি অফিসে নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ ও কার্ডসহ নামের তালিকা কোন দিন কৃষি অফিসে জমা দিতে হবে তা জানতে পারেননি তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকেরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কৃষকদেরকে জানানোর জন্য কোন উদ্যোগই নেননি।
কৃষকদের অভিযোগ কৃষি অফিসের লোকজন কাউকে বিষয়টি জানায়নি। আর ইউপি চেয়ারম্যানগণ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কৃষকদের কাছ থেকে তালিকা সংগ্রহ করার বিষয়ে একদিনও মাঠে যায়নি কেউ। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি হারে খাদ্য গোদামে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানা গেছে।
শাল্লা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরের গ্রাম পুড়ারপার গ্রামের কৃষকরা সরকারি গোদামে ধান দেয়ার তালিকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জানলেও উপজেলা সদরের গ্রাম ডুমরা গ্রামের কৃষকরা বিয়য়টি জানেন না।
পুড়ারপারের কৃষক গৌরচাঁদ তালুকদার বলেন,‘ আমি গত সপ্তাহে কৃষি কার্ড উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দিয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে দুই টন ধান দেয়া যাবে।’
তবে উপজেলা সদরের ডুমরা গ্রামের কৃষক খিরেন্দ্র তালুকদার বলেন,‘আমাদের গ্রামের কৃষকরা বিষয়টি জানে না। কৃষি কার্ড মেম্বারের কাছে জমা রয়েছে। শুনেছি কিছু মানুষ গোদামে ধান দেয়ার জন্য চুপি চুপি তালিকা জমা দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক সাথে কথা চাইলে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত উপ পরিচালক মীর বজলুর রশিদ বলেন,‘কৃষকদেরকে জানানো ও বিষয়টি প্রচারের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা শুধু তালিকা করবেন। আমাদের কর্মকর্তাগণ যতদ্রুত সম্ভব চেষ্টা করছেন কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে।’
জেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ তালিকা প্রণয়ন ও কৃষকদের জানানোর জন্য সকল ইউএনওকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল মাইকিং করতে। খোঁজ খবর নেয়া হবে এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় করা হবে।
 

  • [১]