সরকার নিরবে উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ঢাক-ঢোল পিটানোর প্রয়োজন মনে করছেন না তারা। এরকমভাবে অনেকটা নিরবেই দেশের ১৯৯ টি বেসরকারি কলেজকে একযোগে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হলো। সরকারিকরণের জন্য ঘোষিত ১৯৯ কলেজের মধ্যে সৌভাগ্যজনকভাবে সুনামগঞ্জের ১০টি কলেজও রয়েছে। এগুলো হলোÑবাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভপুর দীগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, দিরাই ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা ডিগ্রি কলেজ, ও পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ। একসাথে এতগুলো কলেজ সরকারিকরণের নজির অতীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরকম একটি শিক্ষাবান্ধব ঘোষণার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে এইসব কলেজের নতুন যাত্রা শুরু হবে। একদিকে কলেজে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকরা যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরীজীবির মর্যাদা পাবেন অন্যদিকে কলেজগুলোতে আরও মানসম্মত শিক্ষক পদায়ন করা হবে। বাড়বে অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। ফলে কলেজগুলোর শিক্ষাদান কার্যক্রমের মান বাড়বে। উপকৃত হবে গ্রাম বাংলার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী। সীমিত সামর্থের কারণে যেসব অভিভাবক দূরবর্তী সরকারি কলেজে নিজের সন্তানকে ভর্তি না করানোর হতাশায় ভোগছিলেন তারা এখন সেই হতাশা থেকে মুক্ত হবেন।
এর আগে সরকার একযোগে দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। অনেক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন, আবাসিক ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের নিরব উন্নয়ন কাজের প্লাবন চলছে। এই উন্নয়নজোয়ারকে যদিও প্রচার বিলাসিতায় পরিণত করার কোন প্রয়োজন নেই তারপরেও জনগণকে এগুলো যথাযথভাবে জানাতে পারলে জনগণ বুঝতে পারত দেশটি উন্নয়নের ধাবমান রথে রয়েছে। সরকারি তথ্য অফিসের মাধ্যমে একধরনের আমলাতান্ত্রিক প্রচারকর্মসূচী রয়েছে বটে তবে সেগুলোর উপযোগিতা সামান্যই। এই প্রচারণা করার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হলো সরকারের নিজের দল আওয়ামী লীগ। তৃণমূলে বিস্তৃত এই সংগঠনটির রয়েছে লক্ষ লক্ষ নেতা, কর্মী ও সমর্থক। জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই সংগঠনটি যদি সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-কে জনগণের মাঝে সঠিকভাবে প্রচার করত তাহলে আমাদের বিশ্বাস দেশে এখন যে ভয়াবহ আদর্শিক সংকট চলছে সেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেত। সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রহীনতার যে অভিযোগ বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সেই জায়গায় উন্নয়নমুখী সাংগঠনিক প্রচারণাটি হতে পারত জুৎসই জবাব। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের বড়, মাঝারী ও পাতি নেতারা নিজেদের আখের ঘোচাতেই ব্যস্ত। তারা নিস্ফলা কাজে নামতে আগ্রহী নন। সরকার ও জনগণের মধ্যে সংগঠন কাজ করে সেতুবদ্ধ হিসাবে। আজ সরকার দারুণ দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, সকল সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করছে কিন্তু সংগঠন সেই সাফল্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। আওয়ামী লীগকে আজ এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে হবে।
দেশে জঙ্গিবাদের নামে কিছু তরুণ আজ যেভাবে পতঙ্গের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে এর পিছনে এক বিশাল সামাজিক বাস্তবতা ভূমিকা রাখছে। এই তরুণরা বিভ্রান্ত পথভ্রষ্ট হচ্ছে সমাজে আদর্শ ও নৈতিকতার ঘাটতি থাকার কারণে। এরা চোখের সামনে অন্যায় দেখে মনে মনে ফুঁসে উঠছে। এই ফুঁসে উঠাকে সুচতুরভাবে কাজে লাগাচ্ছে একটি মতান্ধ গোষ্ঠী। এই জায়গা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় হলো সরকারের নিজের সংগঠনকে জনগণের মাঝে মিশে যাওয়া। ঠিক যেমন মাছ জলে মিশে থাকে তেমনি। আওয়ামী লীগ কি এই মহাসত্য অনুধাবনে সক্ষম হবে?