- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সরকার দলীয় ও সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের একই মত ‘ইকোনমিক জোন’ হতে পারে ছাতকের ইসলামপুরে

বিশেষ প্রতিনিধি
ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নে বন বিভাগের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির বেশিরভাগই প্রভাবশালীদের দখলে। এই জমি কোন কাজে আসছে না। বনায়ন যা ছিল তাও লুটপাট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় শিল্পশহর ছাতক শহরতলির বিশাল এই ভূমিতে ‘ইকোনমিক জোন’ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সাবেক এবং বর্তমান দুই সংসদ সদস্যই বলেছেন,‘অবশ্যই এটি ইকোনমিক জোন হতে পারে। এই এলাকার পরিবহন সুবিধা অন্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে ভাল। ওখানে সড়ক পথ, রেল পথ এবং নদী পথ তিনটিই ব্যবহার করা সম্ভব।
সৌদি আরবের বিখ্যাত শিল্পগ্রুপ সৌদি আল রাজি গ্রুপ ছাতক ও দোয়ারাবাজার (সীমান্ত) এলাকায় ৩ টি শিল্প কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য ১৫শ’ হেক্টর জমিও চেয়েছে আল রাজি গ্রুপ। ইতিমধ্যে (গত ২০ অক্টোবর) ঐ শিল্পগ্রুপের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবার পর সৌদি আল রাজি গ্রুপকে পরিবহন এবং সিমেন্ট কারখানা গড়ে তোলতে কাঁচামাল প্রাপ্তিতে সুবিধা হবে এ ধরনের জমি কোথায় দেওয়া হবে এ নিয়ে ছাতক –দোয়ারাবাজারের উপজেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা আরম্ভ হয়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানালেন ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নে বনবিভাগের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। ওখানে এখন কোন বন নেই। বনায়নও হচ্ছে না। এক সময় (বিএনপি শাসনামলে) মুর্তা চাষের নামে এই জমির বেশিরভাগ বেদখল হয়েছে। কেউ মুর্তা চাষও করেনি। কেবল সরকারি টাকা লুটপাট হয়েছে। এই ৪ হাজার হেক্টর জমিতেই শিল্প কারখানা গড়ে উঠেতে পারে।untitled-1
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দুর রহমান বলেন,‘বন বিভাগের ৪ হাজার হেক্টর জমির বড় একটি অংশ বিএনপি শাসনামলে বেদখল হয়েছে। ওখানে মুর্তা চাষের নামে তৎকালীন বিএনপি নেতারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন। মুর্তা চাষও হয়নি। ঐ এলাকায় কিছু বন-বাদালি ছিল, এগুলোও লুটপাট হয়েছে।’ বনবিভাগের লোকজন এই লুটপাটে শরিক রয়েছে দাবি করে সৈয়দুর রহমান বলেন,‘মুর্তা চাষ প্রকল্প থেকে সরকারী কোষাগারে কোন টাকাই জমা হয়নি’। সৈয়দুর রহমানের দাবি ইসলামপুরে বন বিভাগের বেদখল হওয়া জমিতে এখন ধান চাষ হচ্ছে।
জেলা বন কর্মকর্তা বলরাম রায়’র কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ইসলামপুরের বন বিভাগের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিই সরকারের কাছে ন্যস্ত আছে। একসময় ঐ জমি ছাতক পাল্প এ- পেপার মিলকে তাদের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। পাল্প এ- পেপার মিল বন্ধ হবার পর এই জমি বনবিভাগের কাছেই ন্যস্ত হয়েছে। কিছু জমি বেদখল আছে। এগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জমিতেই বনায়ন করবে বনবিভাগ।’
আগের বনই তো লুটপাট হয়েছে? এখন আবার বনায়ন হলে রক্ষা হবে কীভাবে। প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে বলরাম রায় বললেন,‘আমি ব্যস্ত, ঝামেলায়, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলি’।
সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘বিএনপি শাসনামলে মুর্তা উৎপাদনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ছিল। দেশের অনেক প্রকল্পই সফল হয়। আবার অনেকগুলো হয় না। এটিও হয়নি। বন বিভাগের জমি বেদখল হয়ে থাকলে উচ্ছেদ হতে পারে। তবে গরিব কৃষকরা এখানে জীবন-জীবিকার তাগিদে চাষবাস করছেন। তাদের পুনর্বাসনের চিন্তা করতে হবে। ভূমিহীন কৃষকদের একটি অংশকে ওখানে জমিও দেওয়া যেতে পারে। বাকি জমিতে অবশ্যই ‘ইকোনমিক জোন’ হতে পারে।’
ছাতক-দোয়ারা নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘ইসলামপুর ইউনিয়নে ৪ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। এই জমিতে এক সময় ছাতক পাল্প এ- পেপার মিলের নলখাগড়া উৎপাদন হতো। বিএনপি শাসনামলে এখানে মুর্তা চাষের নামে লুটপাট হয়েছে। খামার বাড়ি’র নামে লিজ হয়েছে। পেপার মিল বন্ধ হবার পর এই জমি সরকারের কাছেই ন্যস্ত হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশের বিস্তীর্ণ এই জমিতে হবিগঞ্জের শিল্প পার্কের মতো ‘ইকোনমিক জোন’ হতে পারে। সৌদি আল রাজি গ্রুপ’র আগ্রহ অনুযায়ি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানা হতে পারে। অন্যান্য শিল্পগ্রুপও এখানে কারখানা গড়ে তুলতে পারে’।

  • [১]