- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সর্পরাজ ইব্রাহিম আলী

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
সর্পরাজ ইব্রাহিম আলী (৫৯)। বিষাক্ত সাপদের ভালোবেসে সঙ্গী করে যিনি পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ৫৯ বছর। সাপ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। এখনও সাপের সন্ধানে ছুটে বেড়ান দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। সেই সাথে লতা-পাতা দিয়ে নিজের তৈরী রোগ নিরাময়কারী ভেজষ দিয়ে মানুষের উপকার করে আসছেন ।
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিমের        
জন্ম ভারতের আসাম রাজ্যে। তার পিতা তাহের আলীও ছিলেন ওঝা ও কবিরাজ। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে গূণমন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন তিনি। পরে ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ কামাখ্যায় (পানামং মায়ারাজ্য) সর্প বিদ্যা ও তন্ত্র-মন্ত্রে একাধারে ১৮ বছর প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তার গুরু আসামের সামলাল গারওয়ালি নেংটা নাগার কাছ থেকে গূণমন্ত্র শিখেন ইব্রাহিম। এর পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে নিজ দেশে ফিরে আসেন ইব্রাহিম। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিষধর সাপ কিং কোবরা, কোবরা, পংকি আলদ, সূর্যমূখী, মাছুয়া আলদ, গাছুয়া আলদ, দুধরাজ, কেরেট আলদসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ধরে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
যে কোন প্রজাতির সাপ নিজের বশে আনতে ইব্রাহিম পারদর্শী। বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় অস্থায়ী বসতি স্থাপন করেছে তার সাপুড়ে টিম। টিমে রয়েছে তার ছেলে-মেয়ে, শিষ্য ও একাধিক সাপুড়ে পরিবার। তারা কালিগঞ্জ বাজারের পাশের উচু ধানী জমিতে তাবু টানিয়েছেন। কোথাও সাপের উৎপাতের খবর শুনলেই ঝুলি কাঁধে নিয়ে পৌঁছে যান ইব্রাহিম ও তার দল। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছেলে আল-মামুন, মাহিদুল হোসেন ও নাতি হাসিম ভাতিজা রাজু মিয়া।
গতকাল শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা সদরের মধ্য তাহিরপুর গ্রামের নূরুল হুদা মাষ্টারের বসত বাড়ী থেকে ধরেন গাছুয়া আলদ, পঙকী আলদ প্রজাতির দুটি সাপ।
ইব্রাহিম আলী বলেন, সাপকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সাপ কারো ক্ষতি করে না। ওরা আমাদের বন্ধু। তাই সাপেরা অনেক সময় মানুষের বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করে। ভয়ে অনেকেই বাড়ির বাহিরে থাকেন, কেউ আবার মেরে ফেলেন। আমরা বিনা পয়সার সাপ ধরি। যে কেউ (০১৭ ৪৭ ৩১ ৫৮ ৮১) আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • [১]