- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সর্বস্ব হারিয়ে কাঁদছে কৃষক

গোলাম সরোয়ার লিটন
রোববার তাহিরপুরের মহালিয়া ও বলদার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে ৪ হাজার ৫শ একর জমির বোরো ধান। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি আর নি¤œমানের বাঁধের কারণে এ ফসলডুবির ঘটনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, রোববার ভোরে বলদার হাওরটির উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দরুন বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। এতে হাওরটিতে চাষ করা দুই হাজার একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলের চাপে নি¤œমানের কাজ করা এই বাঁধটি সহজেই ভেঙ্গে যায়। এ কারণে হাওরটির ধানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল দুই শতাধিক পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছেন।
শনিবার মধ্য রাতে মহালিয়া হাওরের দক্ষিণপাড়ে জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের মদনাকান্দি এলাকার বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে ২৫০০ একর জমির বোরো ধান। হাওরটিতে স্থানীয় ১৩টি গ্রামের কৃষকরা ধানের চাষ করে থাকেন। হাওরে চাষ করা বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে কাঁদছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। তাহিরপুর উপজেলা সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার দুপুরে মহালিয়া হাওরের দক্ষিণপাড়ে হাওরটির দিকে মুখ করে অনেকের সাথে কাঁদছেন কৃষক রব্বানী (৪০)। কেন কাঁদছেন এ প্রশ্নে চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন,‘ গেল বছর ফিলে (শিলাবৃষ্টিতে) ধান গেছে। এবার ধান গেছে আফর আর বান ভাইঙ্গা (ভেঙ্গে)। হারা বছর কি খাইমু আর ছেলেমেয়ের লেখাপড়াই ক্যামনে করাইমু। এ ভাবনায় এমনিতেই চোখে পানি চইল্যা (চলে) আসে।’
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজব উস্তার বলেন,‘ জনপ্রতিনিধি আর ঠিকাদার যারাই বাঁধের কাজ পেয়েছেন তারা ব্যবসার মনোভাব নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের অতি মুনাফার মানসিকতার জন্যই হাওরপাড়ের কৃষকরা বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে কাঁদছেন।’
জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন,‘পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি আর অতি নি¤œমানের বাঁধের কারণে ফসলডুবির ঘটনা ঘটছে।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,‘নি¤œমানের বাঁধের কাজের কারণেই কৃষকদের কষ্টার্জিত বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,‘বাকী হাওরগুলো রক্ষায় কৃষকদের নিয়ে চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।’

  • [১]