- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সহকারী শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ- দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়

আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে শেষ মুহূর্তে আটকে গেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের যোগদান প্রক্রিয়া। রবিবার জেলা শিক্ষা অফিসের চিঠি পেয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে এসে শুনতে পান, নিয়োগ কার্যক্রমের উপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা হবে না। এই নিয়োগে জেলার ৬২১ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্থগিতাদেশের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি ইস্যু হওয়ায় বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত নিয়োগপ্রাপ্তরা ক্ষতির শিকার হলেন। বিষয়টি আগে থেকে জানিয়ে দিলে তাদের এই ভোগান্তি সহ্য করতে হত না। শুধু সুনামগঞ্জ জেলা নয়, নিয়োগে ৬০% নারী কোটা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৩৬টি জেলার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের উপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে এই আদেশ জারি হয় বেশ কয়েকদিন আগেই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্ব ছিল আদালতের আদেশ হওয়ার পরপরই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের আদেশ অনুসরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে যোগদান করার চিঠি চলে গেছে। সেই চিঠি প্রত্যাহার করে আলাদা কোনো চিঠিও জারি হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদানের জন্য আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন। এ ধরনের অবস্থা অনভিপ্রেত।
সুনামগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে প্রচুর শূন্য পদ রয়েছে। অবসর ও অন্যত্র বদলি জনিত কারণে প্রতিনিয়ত শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ে। তাই প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকা দরকার। আগে নিয়োগের জন্য প্যানেল প্রস্তুত করে রাখা হত। এখন প্যানেল না করে সরাসরি নিয়োগ দান করা হয়। প্যানেল থাকলে কম সময়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যেত। সরকারি বিধি মোতাবেক বিভিন্ন কোটা সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের। এ নিয়ে অভিযোগ আসা এবং সেটি আদালত পর্যন্ত গড়ানো থেকে প্রমাণিত হয় এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন এর ফল ভোগ করছে সুনামগঞ্জসহ দেশের ৩৮টি জেলা। শিক্ষকদের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে কিছুটা গতি আসার সম্ভাবনা ছিল। এখন বেশ কিছু দিনের জন্য এই সংকট ঘনীভূত হল। প্রাথমিক শিক্ষা হল শিক্ষা জীবনের ভিত্তি। এই জায়গায় কাঁচা থাকলে পুরো শিক্ষা জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রাথমিক শিক্ষার উপর সর্বদাই বিশেষজ্ঞরা বিশেষ মনোযোগ দেয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তারা যত কাল ক্ষেপণ করবেন তত বেশি জটিলতা তৈরি হবে। আমরা চাইব, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কোটা সংরক্ষণের বিষয়টির উপর আদালতের আদেশ অনুসরণ করে অনতিবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সুনামগঞ্জ জেলার নিয়োগপ্রাপ্তরা রবিবার যোগদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাৎক্ষণিক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা ৩ দফা দাবিতে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলো হলোÑচলতি সপ্তাহের মধ্যে যোগদান ও পদায়ন নিশ্চিত করা, ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে কার্যদিবস বিবেচনা করা ও ইতোমধ্যে গৃহীত স্বাস্থ্যগত সনদপত্রের কার্যকারিতা বহাল রাখা। তাদের দাবির প্রথমটি নিশ্চিতভাবেই আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত। আদালতের আদেশ না হলে এক্ষেত্রে অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের কিছুই করার নেই। আদালতের আদেশ হলে দ্বিতীয় দাবিটির সুরাহা করা কঠিন কোনো কাজ নয়। আর তৃতীয় দাবিটি তো যৌক্তিকই বটে।
তবে সবচাইতে জরুরি কথা হল, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং এক্ষেত্রে কোনো সময় নষ্ট না করা। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এই জায়গায় যতটা পারদর্শিতা দেখাতে পারবে তত তাড়াতাড়ি আমরা সমাধানের পথ দেখতে পাব।

  • [১]