ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর ধর্মপাশায় হাওরে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার কাজে সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই কাজে সম্পৃক্ত কৃষকসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষকে উৎসাহ দেওয়াসহ আরো শ্রমিক নিয়োগ করত ২০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এতে করে এ কাজে আরো গতি আসবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বুধবার থেকে উপজেলার রুই-কাইল্যানী হাওরে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও একটি খালে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
ওই হাওরে সদর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ১০/১২টি গ্রামের পনের শতাধিক কৃষক বোরো ধান চাষাবাদ করেন। হলিদাকান্দা উত্তরপাড়া ব্রীজ থেকে শয়তানখালী খাল হয়ে রুই-কাইল্যানী হাওরের মির্জালীর গোপাট ও রবিরটুক পর্যন্ত হাওরে চলাচলের প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গা নিচু থাকায় সহজেই পানি জমে যাতায়াতের দুর্ভোগ তৈরি হয়। ফলে বৈশাখে ধান কাটা শুরু হলেই ধান পরিবহণ নিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ দুর্ভোগ লাঘবে গত বুধবার থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের উদ্যোগে কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার ও ওই খালে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছেন। এ নিয়ে শুক্রবার বৃহস্পতিবার সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তাই শনিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন ওই কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় কাজে সম্পৃক্ত সবাইকে উৎসাহ দেওয়াসহ প্রণোদনা হিসেব সমাজসেবা থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘সরকারি সহযোগীতা আমাদের এ কাজকে আরো বেগবান করেছে। পুরো কাজ শেষ না পর্যন্ত আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ চালিয়ে যাবো।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মককর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে সমাজকল্যাণ পরিষদের তহবিল থেকে প্রণোদনা হিসেবে সড়ক সংস্কারের জন্য সামষ্টিক উন্নয়নকল্পে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে এ সহযোগীতা করা হয়েছে।’