সু.খবর ডেস্ক
করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীনের মৃত্যুতে গভীর শোক বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, মানুষের সেবা দিতে গিয়ে এমন মৃত্যু নিশ্চিতভাবে গর্বের। বুধবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এ পোস্ট দেয়া হয়।
এর আগে বুধবার ভোরে ডা. মঈন উদ্দিন রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
ডা. মঈন প্রসঙ্গে পুলিশের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিকিৎসক,নার্সসহ হাসপাতালের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘সম্মুখ যোদ্ধা’ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রতিটি মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু অসুস্থ মানুষকে সেবাদান করতে গিয়ে এমন মৃত্যু নিশ্চিতভাবে গর্বের। ‘শহীদ’ ডা. মইন উদ্দীনের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল সিলেটে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) প্রথম আক্রান্ত রোগী হিসেবে এই চিকিৎসককে সনাক্ত করা হয়। সেদিন রাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর বরাত দিয়ে ওই রোগীর কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়ার তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল।
তখন তিনি জানান, আক্রান্ত চিকিৎসক বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার তার রক্তের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করলে রোববার বিকেলে রিপোর্ট পজিটিভ আসার কথা জানানো হয়। তবে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলেও সে সময় জানান সিভিল সার্জন। তখন থেকেই তিনি বাসায় সেলফ আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ডা. মঈন উদ্দিন সিলেটে কর্মরত অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন সিলেটের সিভিল সার্জন।
পরে ৭ এপ্রিল রাতে তার শারীরিক অবস্থায় অবনতি হলে আশঙ্কাজনক বাসা থেকে ওই চিকিৎসককে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হয়। প্রথমে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হলেও পরে সাড়ে ১১টার দিকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়।
তবে পরদিন ৮ এপ্রিল সকাল থেকে তিনি একটু ভালো ছিলেন বলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানালেও পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় এই চিকিৎসককে। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় তাকে। সেখানেই ৭দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল পৌনে সাতটায় তিনি মারা যান।
সূত্র : সিলেট ভয়েস