শান্তিগঞ্জ অফিস
উচ্চ আদালতের আদেশকে অমান্য করে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার কামাল হোসেনের নিয়োগের এমপিওভূক্তি নিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ায় মাদ্রাসার সুপার মো. রফিকুল ইসলামের বেতন ভাতা বন্ধ করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
জানা যায়, ২৬ এপ্রিল ২০০৩ তারিখের মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২৭ এপ্রিল ২০০৩ মাদ্রাসায় যোগদান করেন কামাল হোসেন। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভূক্ত হলে সুপার মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির লোকজনের সহায়তায় কামাল হোসেনকে বেআইনিভাবে এমিপওভূক্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সহ সুপার কামাল হোসেন তৎকালীন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার, নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন এমপিওভূক্তি পাওয়ার জন্য। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টরা কামাল হোসেনের এমপিওভূক্তি বহাল রাখার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মাদ্রাসা সুপারের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার এসব আমলে নেন নি। পরে নিরুপায় হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন কামাল হোসেন। রিট পিটিশন নং ১০৩৭৫/২০১৪ দায়ের করলে গত ১১ জুলাই ২০১৯ তারিখে কামাল হোসেনের পক্ষে রায় দেন উচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের ৪০ নং স্মারকে কামাল হোসেনকে এমপিওভূক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার কামাল হোসেনকে এমপিওভূক্তির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন নি। এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ রফিকুল ইসলামের বেতন ভাতা বন্ধ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার সহ সুপার কামাল হোসেন বললেন, উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও এমপিওভূক্তির বিষয়ে সুপারের গাফিলতির কারণে আমি নিরুপায়। আমার এমপিওভূক্তি বহাল রাখার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যপারে মাদ্রাসার সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বললেন, আমি এমপিওভূক্ত করার মালিক নই, কাগজ পাঠিয়েছি।