- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সাকিব-মাহমুদুল্লায় অবিস্মরণীয় জয়

সু.খবর ডেস্ক
১২ বছর আগে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ইতিহাস গড়েছিলেন আশরাফুল-আফতাবরা। সেদিন অদম্য টাইগাররা হারিয়ে দিয়েছিলেন পন্টিং-ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাদের মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে। সেই সোফিয়া গার্ডেনে গতকাল এলো আরও একটি অবিস্মরণীয় জয়! এ জয় এসেছে দুই টাইগারের জোড়া সেঞ্চুরিতে। চরম বিপর্যয়ের মুখে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দু’জনেই সেঞ্চুরি করে ৫ উইকেটের এক স্মরণীয় জয় এনে দেন দেশকে। এ জয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি ইভেন্টের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে টাইগাররা। আজ ইংল্যান্ড যদি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিতে পারে তাহলেই পূরণ হয়ে যাবে টাইগারদের স্বপ্ন। বৃষ্টিতে ম্যাচটি পণ্ড হলেও সেমিতে যাবে বাংলাদেশ। এ জয়ে র‌্যাংকিংয়েও মূল্যবান তিনটি পয়েন্টও পেয়েছে টাইগাররা। মাশরাফি-সাকিবদের র‌্যাংকিং পয়েন্ট এখন ৯৫। কিউইদের ২৬৫ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ধুঁকছে তখন জুটি বাঁধেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। সেখান থেকে ২২৪ রান যোগ করে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন তারা। পঞ্চম উইকেটে তো বটেই বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা জুটি এটি। ১১৪ রান করে সাকিব যখন মাঠ ছাড়েন তখন জয় থেকে মাত্র ৯ রান দূরে বাংলাদেশ। এরপর চার মেরে সেঞ্চুরি করেন তার পার্টনার মাহমুদুল্লাহও। আর জয়সূচক বাউন্ডারিটি আসে বল হাতে জাদু দেখানো মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে। পাঁচ উইকেটের এ জয়ের মাহাত্ম্য বোঝানোর জন্য আসলে একটু পেছনে যেতে হবে। ২৬৫ রান তাড়া করতে নেমে কী ভনায়ক শুরুটাই না হয়েছিল! সাউদি-বোল্টের বল যেন উইকেটে পড়ে সাপের ছোবল তুলছিল। সেই ছোবলে ১২ রানেই নেই ৩ উইকেট। তামিম, সাবি্বর, সৌম্য_ তিনজনই সাউদির শিকার। এরপর মিলনের এক্সপ্রেস ডেলিভারি মুশফিকের মিডল স্টাম্প ছত্রখান করে দেয়। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জুটি বাঁধেন সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ। টিপিক্যাল ইংলিশ কন্ডিশনে দাঁতে দাঁত চেপে কিউই পেসারদের প্রতিরোধ শুরু করেন। প্রাথমিক বিপদটা সামলানোর পর রেকর্ডের পর রেকর্ড লুটায় এ জুটির পায়ে। ওয়ানডেতে এর আগে পঞ্চম উইকেটে সেরা জুটি ছিল মুশফিক-সাকিবের ১৪৮। সেটি পেরুনোর পর ভাঙেন দেশের পক্ষে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ মুশফিক-তামিমের ১৭৮ রানের জুটি। এর আগে অবশ্য কার্ডিফের সর্বোচ্চ জুটিও ভেঙেছেন তারা (দ্রাবিড়-কোহলির ১৭০ রান)। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দু’শ রানের জুটি গড়ে কিউইদের দোর্দণ্ড দাপট গুঁড়িয়ে দেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। দুরন্ত সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতেও কৃপণ ছিলেন সাকিব। তাই দুই সেঞ্চুরিয়ানের মধ্যে ম্যাচসেরা ঘোষণা করা হয় সাকিবকেই। সকালে টসে হেরে বোলিং করতে নেমে বাংলাদেশের সূচনাটা ভালো হয়নি। বিশেষ করে মুস্তাফিজ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছিলেন না। উল্টো নিশাম-ব্রুমদের হাতে মার খাচ্ছিলেন। তাই অনেকটা অপারগ হয়েই চলি্লশ ওভারের পর মোসাদ্দেককে বোলিংয়ে এনেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। আর সেই মোসাদ্দেকই কি-না টপাটপ তিনটি উইকেট তুলে কিউইদের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। তার জন্যই তিনশ’ কুড়ির চোখ রাঙানি দেওয়া স্কোরটা শেষ পর্যন্ত ২৬৫-তে থামে। কিউইরা স্কোর বোর্ডে দুইশ’ রান তুলে ফেলেছিল চলি্লশ ওভারের আগেই। হাতে উইকেটও ছিল সাতটি। নিশ্চিতভাবেই শেষ দশ ওভারে ঝড় তোলে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল তারা। ম্যাচের চিত্রটা বদলাতে শুরু করে ৪৪তম ওভারে। এক ওভারে নেইল ব্রুম ও অ্যান্ডারসনকে আউট করে দেন মোসাদ্দেক। আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা জিমি নিশামকে পরের ওভারে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেললে শেষ হয়ে যায় কিউইদের বড় রানের স্বপ্ন। ২১ বছর বয়সী এ অফস্পিনার তিন ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। যেটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং! গতকাল অবশ্য বাংলাদেশের প্রায় সবাই ভালো বোলিং করেছেন। না হলে এমন দুর্দান্ত সূচনার পরও কিউইদের ২৬৫ রানে আটকে রাখা সম্ভব হতো না। এই যেমন সাকিব আল হাসান; গতকালও তিনি কোনো উইকেট পাননি। কিন্তু লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করায় কিউইদের রান তুলতে বেশ কষ্ট হয়েছে। তার তৈরি করা চাপের কারণেই কিউই ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ কেন উইলিয়ামসন রান আউটের ফাঁদে পড়েন। আর দলকে প্রথম সফলতা এনে দেন প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামার সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ। ওপেনার লুক রনচিকে আউট করার পর কিউইদের আরেক তারকা রস টেলরকেও ফেরান তিনি। চমৎকার বোলিং করেছেন রুবেল হোসেনও। শুধু গাপটিলের উইকেটটি নিলেও ডানহাতি এ পেসারকে খেলতে ভালোই সমস্যায় পড়তে হয়েছে কিউইদের। অধিনায়ক মাশরাফিও যথেষ্ট মিতব্যায়ী ছিলেন। আর অ্যাডাম মিলনেকে বোল্ড করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছেন মুস্তাফিজও।

  • [১]