বিন্দু তালুকদার
সাগরের নিম্নচাপ ও বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর ও নদীর পানি গত তিনদিন ধরে হ্রাস পাচ্ছে না। উল্টো উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদী ও হাওরের পানি কোথাও কোথাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাওর ও নদীর পানি হ্রাস না পেয়ে অসময়ে বৃদ্ধির কারণে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বোরো জমি চাষাবাদে বিলম্ব হবে বলে দাবি করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী।
সাগরে জোয়ারের প্রভাবে মেঘনা নদীর কিশোরগঞ্জের ভৈরব মোহনায় পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বের মাসে সুরমা নদীর পানি যে স্তরে ছিল, এই সময়ে গত বছরের চেয়ে দেড় ফুট পানি বেশী রয়েছে। নদীর পানি হ্রাসও হচ্ছে ধীর গতিতে। সাগরে নি¤œচাপ ও কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে জোয়ারের প্রভাবে মেঘনার মোহনায় পানি টানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের পানি প্রবাহের রাস্তা ভৈরব এলাকায় তিন দিন আগে পানির স্তর ছিল ১.৮ সেন্টিমিটার। গত তিন দিনে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার পর্যন্ত পানির স্তর ছিল ২.৪ সেন্টিমিটারে।
একই সাথে সুরমা নদীর প্রতিদিন ১৫-২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেলেও গত দুই দিন পানি কমেনি। উল্টো ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি হয়েছে। রবিবার সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহর এলাকায় ছিল ৩.৯৪ সেন্টিমিটারে; সোমবার ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩.৯৮ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানির স্তর সিলেট অঞ্চলে রবিবার ছিল ৪.১৭ সেন্টিমিটার কিন্তু সোমবার তা ০.১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৪.৩৭ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের পানিও কমছে না; কোথায় কোথাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরপাড়ের নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক রবীন্দ্র দাস বলেন,‘ বৃষ্টির কারণে গত দুই দিন ধরে হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলাম পানি বৃদ্ধির কারণে তা তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।’ ছায়ার হাওরে দুই দিনে অন্তত ১০-১২ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপির রামজীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বাবলম্বী কৃষক আলী আহমদ মুরাদ বলেন,‘বোরো মওসুমের শুরুতেই পানি ধীর গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। গত বছর এই সময়ে বীজতলা তৈরি শেষ হয়ে যেত; কিন্তু এইবছর অর্ধেক বীজতলা তৈরির কাজ এখনও বাকী রয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সাথে শনি ও হালি দুইটি হাওরের পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ’
সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,‘ বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে হাওরের পানিও হ্রাস পাচ্ছে না। উজানের পানি নেমে আসায় সুরমার পানি গত দুইদিন ধরে বাড়ছে। সোমবার হাওর ও নদীর পানির স্তর সমান রয়েছে। এতে করে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও জমি চাষাবাদ অন্তত ৮-১০ দিন পিছিয়ে যাবে। ’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন,‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে বোরো জমি চাষাবাদে কিছুৃটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বীজতলা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আগামী মাসেই ধান রোপন শুরু হয়ে যাবে।’