- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সাচনাবাজারে খাস জমিতে দোকান কোঠা বরাদ্দ, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেয়া হোক

সকল মানুষের উন্নয়ন ধারণায় ‘সমতা’ এর সাথে ‘ন্যায্যতা’ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক সময় সমতা নিশ্চিত করা গেলেও এতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায় না। মনে করুন ১০ টি পরিবারের নামে ১ হাজার টাকা সহায়তা এসেছে। আপনি পরিবার পিছু ১ শ’ টাকা করে বণ্টন করে দিলে সহজেই সমতা নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু ১০ টি পরিবারের বাস্তব অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, অন্তত ২টি পরিবারের আর্র্থিক অবস্থা এমন যে তাদের বাড়তি কোন সহযোগিতার দরকার নেই। আবার এমন আরও ৩টা পরিবার আছে যাদের অবস্থা একেবারেই খারাপ। তখন এই জায়গায় বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতার চাইতেও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাটা জরুরি হয়ে যায়। মূলত সমতার সাথে ন্যায্যতার দাবি বিবেচনায় না নিলে সেটি হবে অন্ধ মানুষের মত আচরণ। কথাগুলো মনে হলোÑ জামালগঞ্জের সাচনাবাজারে সরকারি খাস ভূমিতে দোকানকোঠা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখে। সংবাদে এসেছে, দোকানকোঠা বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই বড় ব্যবসায়ী, কিছু আছেন যারা মোটেই ব্যবসায়ী নন, আরও কিছু আছেন যাদের বাজারে নিজস্ব ভিট আছে, রয়েছেন স্বচ্ছল শ্রেণির লোকও। আইনি ব্যাখ্যায় হয়তো এখানে কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। সকলেরই ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ওই যে উপরে বলা হলোÑ ন্যায্যতা, সেটি একেবারেই প্রযুক্ত হয়নি এখানে। কারণ আবেদন বা দেনদরবার করেও বরাদ্দ না পাওয়াদের তালিকায় আছেন আগে ভিটে উচ্ছেদ হওয়া অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা প্রকৃত অর্থেই বাজারে একটি ভিটের মালিক হওয়ার মত সামর্থবান নন। অথচ এদের ছোটখাট ব্যবসা করেই খেতে হবে। তারা দোকান বরাদ্দ পাননি। সরকারি খাস ভূমি বণ্টনের ক্ষেত্রে এই তেলে মাথায় তেল দেওয়ার অভ্যাসটি একেবারেই অপ্রযোজ্য। সরাসরি আইনি ব্যাখ্যা অনুসরণ করার দরকার পড়ে না এতে, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সারমর্ম অনুসরণ করার মধ্যেই এর যথার্থতা নিহিত। সরকার সবসময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে একটু একটু করে উপরে নিয়ে আসার নীতিই অবলম্বন করেন। সরকারের এই জনমুখী নীতি অনুসরণ না করে যে কর্তৃপক্ষ নিজের সুবিধামত সরকারি পরিপত্রের যান্ত্রিক ব্যাখ্যা হাজির করেন, আর অনৈতিক সংযুক্তির মাধ্যমে সামর্থবানদের সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেন, তাদেরকে যথার্থ অর্থে প্রকৃত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসাবে বিবেচনার অবকাশ নেই।
ভিতরের আরও খবর আছে। দোকানকোঠা বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক লেনদেনের খবর বেরিয়ে এসেছে। যারা পরিপত্রের যান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিলেন, এই অনৈতিক কর্মকা-ের বিষয়ে তারা কী বলবেন? শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকার কোন মানে নেই। কয়েক বছর আগে সাচনাবাজারের রাস্তা বড় করার জন্য অনেক ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হয়। তাদের আশ^স্ত করা হয়েছিল পুনর্বাসনের। এখন যখন সরকারি খাস জায়গায় দোকান কোঠা বরাদ্দ হচ্ছে, তখন আগের উচ্ছেদকৃতদেরই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কার্যত যেটি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেননি। এটি ন্যায়ানুগ কর্তব্য পালনের জায়গায় একটি বড় বিচ্যুতি। আর বরাদ্দ দেয়ার জন্য দুর্নীতি ও প্রতিপত্তিকে প্রাধান্য দান করার মধ্য দিয়ে তারা সরকারের জনবান্ধব ইচ্ছার অপমৃত্যু ঘটালেন। সাচনাবাজারের খাসজমিতে দোকানকোঠা বরাদ্দের নামে এমন কর্মকা- তাই নীতি-নৈতিকতা, সর্বোপরি সরকারের মানবিক সদিচ্ছার প্রশ্নে সংশোধন হওয়ার দাবি রাখে।
প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা আগে উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবসা হারিয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হোক। প্রয়োজনে বর্তমান বরাদ্দ সংশোধন বা পরিবর্তন করতে হবে। প্রকৃত সুবিধাবোগীদের সুবিধা দান নিশ্চিত করতে এই ধরনের সংশোধন বা পরিবর্তন করাটাই যুক্তিসঙ্গত। নতুবা সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের দোকানকোঠা বরাদ্দ দেয়ার জন্য দায়ীরা গণবিরোধী সরকারি প্রতিনিধিরূপেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

  • [১]