স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারের কাঠ ও বাঁশ বাজার রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার দুপুরে বাঁশ বাজার এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, সাচনা বাজার জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বাজার। প্রতিবছর এই বাজার ইজারা হয় প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকায়। কাঠ ও বাঁশ বাজারে ব্যবসায়ী রয়েছেন প্রায় ৬০ জন। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী রাজু আফিন্দি, তাঁর চাচা আব্দুন নুর ও আব্দুর রব সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনেরা তাঁদের রেকর্ডিয় জায়গা দাবি করে ব্যবসায়ীদের তুলে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। বাজারে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির অপচেষ্টা ও বাজার দখলের পাঁয়তারা করেছেন। বাজারের জায়গা সরকারী খাস খতিয়ানের থাকায় এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন ব্যবসায়ীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিনে এসে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী রাজু আফিন্দি, তাঁর চাচা আব্দুন নুর ও আব্দুর রব এবং আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী রাজু আফিন্দির মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় তাঁর চাচা আব্দুন নুর বলেন, কাঠ ও বাঁশ বাজারের জায়গা আমরা জমিদারের কাছ থেকে তালুকী কিনেছিলাম। আমাদের কাছে জায়গার কাগজপত্র আছে। এই জন্য আমরা দখলে যেতে চাই। আমরা বৈধ কাগজপত্রে রেকর্ডিয় মালিক।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রব বলেন, এই বাজারের জায়গায় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি জমিদারের রেকর্ডে গিয়েছিল। জায়গা পেতে ১৯৮২ সাল থেকে মামলা করে আসছি। এখনও আমাদের জায়গায় দখলে যেতে পারিনি। রায়ও আমাদের পক্ষে আসছে না। সরকার পক্ষ আপিল করে ফেলেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ দেব বলেন, বাজারের জায়গার তপশীল নিয়ে একটু জটিলতা আছে। বাজারের অনেক খাস জায়গা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এখন একটি পক্ষ দাবি করছে তাদের রেকর্ডিয় জায়গা আছে কাঠ ও বাঁশ বাজারের ভেতরে। বাজার যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, বাজার ওইখানেই থাকবে। এই বাজারের জায়গার বিভিন্ন রেকর্ডপত্র খেঁাজে দেখা হচ্ছে।