ক্ষুব্ধ মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা
মধ্যনগর সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ম্যুরাল থেকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের ছবি অপসারণ করা হয় গত ১৮ জানুয়ারি। ঐ দিন বিকালে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ছবি দুটি অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে গত দুই মাস ধরে ম্যুরালের একাংশ ডাকা রয়েছে সাদা কাপড়ে। ম্যুরালের কাজ এতো দিনেও শেষ না হওয়ায় মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জানা যায়, মধ্যনগর উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের প্রস্তাবিত এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্য গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কোটেশনের মাধ্যমে কাজ পায় ধর্মপাশার মেসার্স রানা ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান ৩০ দিনের মধ্যে ম্যুরাল নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় বেধে দিয়ে গত বছরের ২৩ জুন কার্যাদেশ দেন। ওই ম্যুরালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকার কথা। কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে ম্যুরালের নকশা পরিবর্তন করে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ছোট ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের ছবি যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদা আহমেদ। পরে গত ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে এমপি ও তার ছোট ভাইয়ের ছবি সরানোর জন্য নির্দেশ দেন বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই আদেশে মধ্যনগরে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের মূল নকশা অপরিবর্তিত রেখে সেখান থেকে এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ছবি অপসারণের জন্য ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের ইউএনও এবং ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এই আদেশের কপি পেয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মধ্যনগরে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছবি অপসারণ করে সেই স্থান সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয় প্রশাসন। গত দুই মাস ধরে ম্যুরালের একাংশ সাদা কাপড়েই ঢাকা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটির কাজ শেষ করার জন্য এখনো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. ইজাজুর রহমান রানা বলেন, নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছবি সরানোর বিষয়টি আমি ছবিসহ আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ম্যুরাল নির্মাণ কাজ এখনো কেন শেষ করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি।
নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছবি অপসারণের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এটির একাংশ এখনো সাদা কাপড়ে ডাাকা রয়েছে। এতে করে ম্যুরালটি ভাল দেখাচ্ছে না। আমি যত দ্রুত সম্ভব বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রয়েছে। এজন্য ম্যুরাল নির্মাণ কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচেছ।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।