- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সারের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির বিষয়ে দ্রুত নজর দিন

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ক্ষেত্রভেদে প্রতি বস্তায় এক থেকে দেড় শ’ টাকা করে বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে কৃষকদের নিকট থেকে। কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে সারের মূল্য বৃদ্ধির এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে জেলার প্রধান ফসল বোরো চাষাবাদের সময়। এই সময়ে সারের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। কৃষকরা দাম বেশি হলেও বাড়তি দাম দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হন। বাড়তি দামের কারণে কৃষকদের ধান চাষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ সারের মূল্য বৃদ্ধির এই কথা স্বীকার করছেন না। সংকট স্বীকার করলে এর সমাধান বের করা যায়। কিন্তু যখন সংকটের কথা স্বীকারই করা হয় না তখন এর সমাধান হয়ে পড়ে সুদূর পরাহত। কৃষকরা এই ধরনের এক সংকট মাথায় নিয়েই দেশের খাদ্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে বোরো ধান চাষাবাদের কাজে নিয়োজিত হয়েছেন।
জেলায় বোরো চাষাবাদের জন্য যে পরিমাণ সারের চাহিদা তার তুলনায় সরকার ডিলারদের মাধ্যমে যে পরিমাণ সার সরবরাহ করেন তা কম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের বক্তব্য থেকে এই তথ্য জানা যায়। তাঁর বক্তব্য মতে ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ৬৮১ টন। একইভাবে ডিএপি সারের চাহিদা ১০ হাজার ৩১৩ টন, এমওপি’র চাহিদা ১৬ হাজার ৯৮৪ টন, টিএসপি’র চাহিদা ৬ হাজার ৬১০ টন। উপরের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ আছে যথাক্রমে ২২ হাজার ৯৩৬ টন, ৯ হাজার ১৪৫ টন, ৩ হাজার ৭৫০ টন ও ৪ হাজার ৭৬ টন। দেখা যাচ্ছে প্রতিটি জাতের সারের চাহিদার চাইতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক কম। বাজারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুসারে চাহিদার চাইতে জোগান কম থাকলে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়। সারের বাজারটি এখন এই প্রবণতা দ্বারা আক্রান্ত। চাহিদার চাইতে কেন বরাদ্দ কম এবং ঘাটতি চাহিদা কী উপায়ে মিটানো হবে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অথচ সদিচ্ছা থাকলে চাহিদামাফিক সারের বরাদ্দ নিশ্চিত করা কোনো কঠিন কাজ ছিলো না। চাহিদার চাইতে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলা ইচ্ছাকৃত না অন্য কিছু তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমরা মনে করি।
ধান চাষাবাদের খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। বীজ, সার ও সেচের দাম কখনও কমে না। বছর বছরই বাড়তে থাকে। উপরন্তু কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আরও দাম বাড়ানোর ফলে কৃষকদের উপর অসহনীয় চাপ তৈরি হয়। কিন্তু উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। গত দুই বছর ধরে ধানের দামে কিছু তেজিভাব বিরাজ করলেও উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় এই দাম এখনও কম বলেই মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এত ঝঁুকি মাথায় নিয়েই কৃষকরা ধান উৎপাদন করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন। দেশে খাদ্যের ভালো মজুদ থাকার কারণে সমাজে এক ধরনের স্থিতিশীলতা বিরাজমান রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংকটের মাত্রা বহুমাত্রিক হয়ে উঠার আশঙ্কা থাকে। সরকারকে বিষয়টা বুঝতে হবে এবং কৃষকের ধান উৎপাদন ব্যয় ও ধানের মূল্যের মধ্যে একটি ভারসাম্যমূলক অবস্থা বজায় রাখতে হবে।
জেলায় সারের মূল্য বৃদ্ধির যে খবর পাওয়া যাচ্ছে সে বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ ও চাহিদামাফিক পর্যাপ্ত পরিমাণ সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃষি আকর্ষণ করছি।

  • [১]