আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর
‘আমি আরো লেখাপড়া করতে চাই, আমার পরিবার আমাকে শুক্রবার ১২টায় বিয়ে দিয়ে দিবে। যে কোন মূল্যে আপনারা আমার বিয়েটি আটকান।’ এভাবেই নিজেই সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ‘১০৯৮’ নাম্বারে কল দিয়ে নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছে তাহিরপুর উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী শিলা আক্তার। শিলা আক্তার উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দৌলত মিয়া ও নাজমা বেগমের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে শিলা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ১০৯৮ নাম্বারের কল দিয়ে অভিযোগ জানায়। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কলটি ফরোয়ার্ড করে তাহিরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তৌফিক আহমদের কাছে। তৌফিক আহমেদ কর্তৃক শিলা আক্তারের জীবন বৃত্তান্ত ও স্বজন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার পর পরিবার বিয়ে ভেঙে দেয়।
শিলা আক্তারের বোন জামাই পাশর্^বর্তী কাউকান্দি গ্রামের ওয়াইজ মিয়া বললেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন এ বিয়ে দেয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ কারণেই তারা বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। আগামী রবিবার থেকে শিলা স্কুলে যাবে।
শিলা আক্তারের বড় বোন ওযুফা বেগম বললেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বৃহস্পতিবার রাতেই আমরা বিবাহ ভেঙ্গে দিয়েছি।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুদাচ্ছির আলম সুবল বললেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে বাল্য বিবাহের বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়ের বাড়িতে থানা পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা থানা পুলিশকে কথা দিয়েছে এ বিয়ে আর হবে না।
তাহিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ বলেন, শিলা আক্তার সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ১০৯৮ নাম্বারে কল দিয়ে তার বিবাহ বন্ধের কথা জানিয়েছে । পরে কলটি ফরোয়ার্ড করে আমার কাছে পাঠালে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত জেনে থানার অফিসার ইনচার্জ ও ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় বাল্য বিবাহটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (চলতি দায়িত্বে) মো. আসাদুজ্জামান রনি বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাল্য বিবাহের বিষয়টি আমাকে জানালে আমি শিলা আক্তারের পরিবারের সাথে কথা বলি। তারা এ বিয়ে দিবে না মর্মে আমাকে কথা দিয়েছে।