- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সাহিত্যে নোবেল পেলেন বব ডিলান

সু.খবর ডেস্ক
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কিংবদন্তির মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী বব ডিলান। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত ঐতিহ্যে নতুন কাব্যিক দ্যোতনা সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে ডিলানকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হলো বলে জানিয়েছে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। নোবেলের শত বছরের ইতিহাসে ৭৫ বছর বয়সী ডিলানই এ পুরস্কারজয়ী একমাত্র সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার। আর ১৯৯৩ সালে টনি মরিসনের পর তিনিই প্রথম মার্কিন নাগরিক, যিনি সাহিত্যে নোবেল পেলেন।
১৯৪১ সালে মিনেসোটার ডুলুথে জন্ম নেন রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যান; পরে ইংরেজ কবি ডিলান টমাসের নাম থেকে বব ডিলান নাম নেন তিনি। তিনি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আর্বিভূত হন ১৯৫৯ সালে মিনেসোটার এক কফি হাউজে।
রক, ফোক, ফোক-রক, আরবান ফোকের গায়ক-গীতিকার ডিলান ষাটের দশকেই পৌঁছান খ‌্যাতির শিখরে। হাতে গিটার ও গলায় ঝোলানো হারমোনিকা নিয়ে তিনি সবার নজর কাড়েন।
ডিলানের ‘ব্লোইন ইন দ্য উয়িন্ড’, ‘দ্য টাইমস দে আর অ্যা-চেইঞ্জিং’, ‘মাস্টার্স অব ওয়ার’, ‘অ্যা হার্ট রেইন’স অ্যা-গোনা ফল’, ‘লাইক অ্যা রোলিং স্টোন’ গানগুলো হয়ে ওঠে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের গণসঙ্গীত। যুদ্ধবিরোধী ও নাগরিক আন্দোলনের অনেক সংগঠন এই গানগুলো মর্ম-সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের পক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্করের সঙ্গে ছিলেন ডিলানও।
ডিলান প্রায় ৫০ বছর ধরে সঙ্গীত জগতে সক্রিয়। এখনও তিনি গান লেখেন ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
সুইডিশ অ্যাকাডেমির স্থায়ী সচিব সারা দানিয়াস পুরস্কার ঘোষণার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, বব ডিলানকে এই পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা ‘প্রশ্নাতীত মতৈক্যে’ পৌঁছান।
ডিলান পুরস্কার বাবদ পাবেন একটি স্বর্ণের মেডেল ও ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার)। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দেওয়া হবে এ পুরস্কার।
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান বেলারুশের লেখক ও সাংবাদিক সেভেৎলানা অ্যালেক্সিয়েভিচ। তিনি ছন্দোময় লেখনীর মাধ্যমে সমকালীন দুর্দশা ও সাহসিকতার বয়ান তুলে এনেছেন বলে জানায় সুইডিশ অ্যাকাডেমি।
সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা অনুসারে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে জাপানের বিজ্ঞানী ইউশিনোরি ওসুমি এবং পদার্থবিজ্ঞানে তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডেভিড জে. থাওলেস, এফ ডানকান এম. হ্যালডেন ও জে. মাইকেল কস্টারলিৎজ পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার।
আর ক্ষুদ্রতম মলিকিউলার মেশিন উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে রসায়নেও এবারে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন—ফ্রান্সের জ্যঁ পিয়েরে সোভেজ, যুক্তরাজ্যের স্যার জে. ফ্রেসার স্টুডার্ট ও নেদারল্যান্ডসের বার্নার্ড এল. ফেরিঙ্গা। আর চুক্তিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের অলিভার হার্ট ও ফিনল্যান্ডের বেংগ্‌ত হলমস্ট্রম।

  • [১]