স্টাফ রিপোর্টার
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, পানি বিলম্বে নামায় বাঁধের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হলেও দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাঁধের কাজ শেষ করা এবং কাজ আদায়ের জন্য বিভিন্ন কমিটি করা হয়েছে। সেই সাথে জেলার সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক এবং প্রশাসনের লোকজন কাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সবকটি বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, কমসময়ে অর্থাৎ সঠিক সময়ে এতো বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শনিবার সকালে ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কাগজে পত্রে পিআইসিতে (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কৃষককের নাম, টাকা তুলছে প্রভাবশালী বা সরকার দলীয় নেতারা, একারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে, অনিয়ম হচ্ছে; এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ‘জমি আছে যাদের তাদের দিয়েই পিআইসি হয়েছে, কাজ করছে, এখন পেছনে আরেক কথা থাকলে এবং সেটি প্রমাণিত হলে পিআইসি বাতিল করা হবে। তিনি বলেন, সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতার কোন অভাব নেই, সময় মত বাঁধের কাজ শেষ হোক, মানুষ ফসল ঘরে তুলুক, এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, আমিও আপনাদের মতো নদীপ্রবণ এলাকার মানুষ। তাই এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ আমি বুঝি। কানাইখালী নদীসহ হাওরের সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমি দুঃখিত। পাহাড়ী ঢল ও অকাল বন্যায় এখানকার একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যায়, তাই হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। তিনি আপনাদের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক।
হাওররক্ষা বাঁধ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ- সিলেট’এর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ শামীমা আক্তার খানম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) এমএ আমিনুল হক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) পরিচালক মন্টু কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল মাহমুদ, সিলেট বিভাগের পাউবো তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশীমোহন সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল আলম প্রমুখ।
এদিকে বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, এমপি।
এসময় সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ.এম. আমিনুল হক, পাউবোর সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী নিজামুল হক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান মন্টু কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, সিলেট পাউবো’র তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান, পওর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।