সুনামগঞ্জ, দিরাই ও ছাতক থেকে সিলেট সড়কে স্পেশাল বিরতিহীন ১২০ টি গাড়ির চলাচল উদ্বোধন করা হয়েছে সোমবার। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে গেইটলক এই স্পেশাল সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে। এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি ভাল মানের বাস সার্ভিস চালুর। এই লাইনে এতদিন বিরতিহীন সার্ভিসের নামে যে সেবা চালু ছিল তা এক কথায় যাচ্ছেতাই রকমের খারাপ ছিল। শুধু যে বাসগুলোর মানই খারাপ ছিল তা নয় বরং সেবার মানও ছিল তদনুরূপ খারাপ। এখন নতুন সার্ভিস চালু করার মধ্য দিয়ে এই লাইনের গাড়ি মালিকরা যাত্রীসেবা বাড়ানোর যে ঘোষণা দিলেন সেটি বাস্তবে যাতে যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠে সেটি আমাদের প্রত্যাশা। এবং এই প্রত্যাশার জায়গা থেকে নতুন সার্ভিস চালু করায় আমরা গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের অভিনন্দন জানাই।
সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দাদের সিলেট, ঢাকাসহ জেলার বাইরে যেতে সড়কপথের কোন বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এই জেলায় ছাতকের একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যতিত আর কোথাও রেলপথ নেই। তাই মানুষকে বাধ্য হয়েই সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে আরেকটি বাধ্যবাধকতা ছিল লাইনে চলাচলকারী গাড়িগুলো মূলত একটি সমিতির আওতায় পরিচালিত হত। এতে করে সিলেট পর্যন্ত যে লাইন, সেখানে কোন ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল না। মালিকরা যে ধরনের বাস রাস্তায় নামাতেন তাতে চড়তেই বাধ্য হতেন যাত্রীরা। বিরতিহীন গাড়ির রাস্তায় রাস্তায় যাত্রী উঠানো-নামানো, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা, যাত্রী বাসে পণ্য পরিবহন করা, যাত্রীদের সাথে কন্ডাকটরের খারাপ ব্যবহার, জীর্ণ গাড়ি, পথে গাড়ি বিকল হয়ে পড়া; এমনসব তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই জেলাবাসী বাইরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন। নতুন বাস সার্ভিস চালু করার পর যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কতোটা কমে সেটি দেখার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। সত্যিকার অর্থে যদি যাত্রী সেবার মান বাড়ানো হয় তাহলে সেটি একটি খুশির বিষয় হবে বৈকি।
সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডে প্রায় সবগুলো পুরাতন সেতু ভেঙে বর্তমান সরকার নতুন সেতু করে দিয়েছেন। এতে সড়কের মান অনেক বেড়েছে। কিন্তু সিলেট লাইনে ভাল গাড়ি না থাকায় ভাল সড়কের উপকারিতা ভোগ করতে পারছিলেন না যাত্রীরা। এবার অন্তত ভাল সড়কের একটি সম্ভাবনা খুলে গেল। এই সম্ভাবনা যাতে হতাশায় পরিণত না হয় তাই আমাদের একান্ত চাওয়ার বিষয়। আসলে মান উন্নয়নের কোন শেষ নেই। একসময় সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট যেতে ছয় ঘণ্টা লাগত। সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন সিলেট যেতে বড়জোর দেড়ঘণ্টা সময় লাগার কথা। যাত্রীরা চাইবেন এই দেড়ঘণ্টাও আস্তে আস্তে কমে আসুক এবং চলতি পথে যতটুকু সময় গাড়িতে অবস্থান করা হোক না কেন সেই সময়টুকু যাতে আনন্দদায়ক হয়ে উঠে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি সিলেট লাইনে প্রকৃত অর্থেই গাড়ির মালিকরা একটি যাত্রীবান্ধব আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলবেন। ১২০ টি স্পেশাল গাড়ি এই চাহিদা পূরণের প্রাথমিক উপকরণ হয়ে সামনে আরও বড় পরিসরে উন্নীত হোক এই শুভ কামনা রইল আমাদের।