সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের অন্তত ১০টি স্পটে সড়কের কিনারের মাটি দেবে গিয়ে ক্ষেত্র বিশেষে এক/দুই ফুট নীচু হয়ে যাওয়ায় ওইসব জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয় বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। সড়কের হালুয়ারগাঁও, বাহাদুরপুর, জানিগাঁও, নীলপুর, গোবিন্দপুর, আহসানমারা, জয়কলস, শান্তিগঞ্জ, পাগলাবাজার, জান্দেরটুপি, বাউরকাপন, জাতুয়া, বোকারভাঙ্গা, বদিরগাঁও এলাকায় রাস্তার কিনারার মাটি দেবে গেছে বলে ওই সংবাদ থেকে জানা যায়। ফলত এইসব এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। গত ৫ অক্টোবর জাতুয়া স্কুলের সামনে যাত্রীবাহী বাস উলটে ৩ যাত্রী নিহত হওয়ার জন্য এই ধরনের বিপজ্জনক রাস্তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলমান ছিল। উল্টোদিক থেকে আসা আরেকটি গাড়িকে পাস দিতে যেয়ে গাড়িটি রাস্তার কিনারে চলে আসলে গাড়ির একটি চাকা পাকা সড়কের নীচে চলে যায়। সড়কের পর রাস্তার সমান্তরাল মাটি না থাকায় বাসটি উলটে পড়ে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুরো সিলেট-সুনামগঞ্জ রাস্তায় এরকম রাস্তার পরিমাণ চার কিংবা পাঁচ কিলোমিটারের বেশি হবে না। রাস্তার সমান করে উঁঁচু করতে মাটি ফেলার জন্য খুব বেশি ব্যয় হওয়ারও কথা নয়। কিন্তু কেন জানি সামান্য এই কাজটুকু হচ্ছে না। সিলেট-সুনামগঞ্জ রাস্তা ও রাস্তার সেতুগুলো নতুন করে নির্মাণের ফলে যাতায়াতকারী গাড়িগুলো গতি বাড়িয়ে চলাচল করে। বাড়তি গতির কারণে এই সব জায়গায় বিশেষ করে ক্রসিং কিংবা ওভার ক্রসিংয়ের সময় চালককে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিশেষ বেগ পেতে হয়।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ভিজিএফ, কাবিখা, কাবিটা, কর্মসৃজন প্রকল্প ইত্যাদির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে। উল্লেখিত প্রকল্পের মাধ্যমে সহজেই রাস্তার এইসব দেবে যাওয়া মাটি ভরাট করা যেতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত কোন খরচও করতে হয় না। দরকার ছিল একটুখানি উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ওইসব কর্মসূচীর আওতায় রাস্তার কিনারার দেবে যাওয়া মাটি ভরাটের কোন উদ্যোগ কখনও নেয়া হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। আমরা মনে করি সওজ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে চিন্তা করা উচিৎ। আমাদের মনে হয় রাস্তার কিনারার মাটি ভরাটের কাজ এর চাইতে সহজে আর কোনভাবে করা সম্ভব নয়।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার দাবি উঠেছে। এই সড়কটি ক্রমশই ব্যস্ত সড়কে পরিণত হচ্ছে। গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে বর্তমান সরকার এই সড়কের সেতু নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাত্র চার/পাঁচ কিলোমিটার দেবে যাওয়ার মাটির তুচ্ছ কারণে সেই রাস্তাটি প্রশ্নবিদ্ধ ও ঝুঁকিবহুল হয়ে থাক এটি কারও কাম্য হতে পারে না। দুর্ঘটনা যেকোন সময় ঘটতে পারে। কিন্তু জেনে শুনে দুর্ঘটনা ঘটার মতো ব্যবস্থা রাখা নিতান্তই অনুচিত। প্রচলিত প্রবাদ মতে এক দোনা দুধে এটি এক ফোটা চেনার (গোমুত্র) মত বেমানান। সুতরাং আমাদের সড়ক কর্তৃপক্ষকে এখন সচেতন হতে হবে। ভাল রাস্তাটির যাবতীয় সুফল যাতে যাত্রীরা গ্রহণ করতে পারে তজ্জন্য সব কিছুই তাদেরকে করতে হবে। আমরা আশা করব, অচিরেই সিলেট-সুনামগঞ্জ রাস্তার যেসব অংশে মূল সড়কের কিনারের মাটি দেবে গেছে সেইসব অংশ ভরাট করে রাস্তার সমান করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।