স্টাফ রিপোর্টার
চুরি-রাহাজানি, মারামারি-হানাহানি, জুয়া-মাদকসহ অপরাধ মূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে বসানো সিসি ক্যামেরাটি নিয়ে গেছে চোর। চুরির ১৫ দিন পার হলেও শনাক্ত হয়নি চোর, উদ্ধার হয়নি সিসি ক্যামেরাও। পিলারে ঝুলে আছে সিসি ক্যামেরাবিহীন এডাপ্টরটি। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পাড়া এলাকায়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পুরো সুনামগঞ্জ শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার লক্ষ্যে গত ২ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে বড়পাড়া বাজারে ৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে জেলা পুলিশ। গত ১০মে রাতে ক্যামেরাটি চুরি হয়ে যায়। চুরির পর স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা মিটিং—সালিশ করেও চোর ধরা যায়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই এখন বাজার পাহারাদার হিসেবে কাজ করছেন। এলাকাবাসী বলছেন, চুরি নয়— অসামাজিক কাজ চালিয়ে যাওয়াই ক্যামেরা চুরির মূল লক্ষ্য।
বড়পাড়া বাজার সমিতির সেক্রেটারি সুয়েব আহমেদ বলেন, ১০ মে সারারাত প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিলো। সেই সাথে রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিলো না। এই সুযোগে দুস্কৃতিকারীরা সিসি ক্যামেরা চুরি করেছে। সিসি ক্যামেরাটি আমাদের বাজারের শৃঙ্খলার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তাই এখন আমরা বড়পাড়া বাজার সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে একই স্থানে নতুন আরেকটি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা করছি।
জানা যায়, বড়পাড়া এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছিলো এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। ক্যামেরা স্থাপনের পর বেশ স্বস্তিতে ছিলেন এলাকাবাসী। কারণ জুয়া ও মাদকসেবীদের উৎপাতে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। সুরমা নদীর পাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির অভাবে নিয়মিত বসতো জুয়া ও মাদকের আড্ডা। জুয়ারি ও মাদকসেবিদের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় সিসি ক্যামেরাটি চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিসি ক্যামেরা না থাকায় নদীরপাড় এখন অপরাধ আর অপরাধীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে নতুন আরও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন সংঘ উইনার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিলন জানান, একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে থাকবে। যারা অনৈতিক কাজের সুবিধার জন্য সিসি ক্যামেরা চুরি করতে পােও, এরা যে কোন সময় মানুষের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এদেরকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় সালিশি ব্যক্তি করিম মিয়া বলেন, দুঃসাহসকারীকে শনাক্ত করে আইনের কাছে সোপর্দ করতে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এরা সমাজটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। অনেক সময় বাইরের এলাকা থেকে মানুষ এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়। এদের লাজ—লজ্জা—ভয় না থাকায় আমরা বাধা দিলেও শুনে না। এলাকার নিরাপত্তায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আহমদ নুর জানান, বড়পাড়া এলাকার বাজারের নিরাপত্তা একবারে নাজুক। বাইরের চোর হলে ধরা যেত, কিন্তু ঘরের চোর চুরি করলে সেটা ধরা অসম্ভব।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদিন বললেন, সিসি ক্যামেরা চুরি হয়ে যাওয়া সত্যি উদ্বেগজনক। আমরা নতুন আরেকটি সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেবো। সেই সাথে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করবো, যেন পরবর্তীতে এরকম ঘটনা আর না ঘটে।