- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুজন হত্যাকাণ্ড, মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে আসামিরা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত. আশুতোষ সরকারের বড় ছেলে সুজন সরকার হেমন্তে কৃষি কাজ আর বর্ষায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। ২০১৯ সালের ১১ জুন একজন অজ্ঞাত লোক সুজনের সেই নৌকা ভাড়া করে। গন্তব্য পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলায়। সে অনুযায়ী পরের দিন ভোরে যাত্রী নিয়ে তাহিরপুরের উদ্দেশ্যে নৌকা নিয়ে যাত্রা করে সুজন। ওইদিন বিকেল তিনটার দিকে সুজন তার ছোট ভাই স্বপন সরকারকে ফোনে জানায় সে বাড়ির দিকে আসছে। ঘন্টাখানেক পরে সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সুজনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সুজনের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ চলতে থাকে। কিন্তু সুজনের কোনো সন্ধ্যান মিলেনি। এর পরদিন অর্থাৎ ১৩ জুন রাতে সুজনের মুঠোফোনে চালু হলে সেটিতে কল করা হলে অজ্ঞাত ব্যক্তি রিসিভ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
বিষয়টি সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে পরের দিন মধ্যনগর থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়। এ ঘটনায় উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের বলারমপুর গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে তানভীর হোসেনকে পুলিশ আটক করলে সুজন হত্যাকা-ের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তানভীরের দেওয়া তথ্যমতে ঢাকার বাড্ডা থেকে এ ঘটনার মূলহোতা কাজল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। কাজল মিয়া চামরদানি ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের লালচাঁন মিয়া ছেলে।
মামলার চার্জশীট সূত্রে জানা যায়, কাজল ও তার সহযোগীরা ওইদিন সুজনের নৌকা ব্যবহার করে গরু চুরির পায়তারা করছিল। বিষয়টি সুজন টের পাওয়াতে ও নৌকার ভাড়া পরিশোধ না করার অভিপ্রায়ে কাজল ও সহযোগীরা সুজনের হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়। এতে সুজনের মৃত্যু ঘটে। পরে লাশ গুম করার জন্য সুজনের শরীরে পাথর বেঁধে টগার হাওরে ফেলে দেওয়া হয়। কাজলকে ঢাকা থেকে আটক করার পর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২২ জুন টগার হাওর থেকে পাথর বাঁধা অবস্থায় সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সুজনের মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে সুজনের পরিবার। সুজনের ছোট ভাই স্বপন পরিবর থেকে দূরে অবস্থান করছে। এ কারণে সুজনের মা তার পুত্রবধূ ও সুজনের দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
মামলা চালাতে গিয়ে ভিটেবাড়ি ব্যতিত ফসলী জমি বন্ধক দিতে হয়েছে। ফলে জমিতে আর ফসল ফলানোর মতো কোনো সুযোগ নেই তাদের। এতে করে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে দিন চলছে তাদের। আসামিরা বর্তমানে জামিনে থাকায় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরোক্ষভাবে নিরীহ পরিবারটির ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই দ্রুত সুজন হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অসহায় পরিবারটি।
হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা শৈলেন তালুকদার বলেন, ‘আসামিরা জামিনে রয়েছে। তাই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমিক দেওয়া হচ্ছে।’
সুজনের মা সাবিত্রী সরকার বলেন, ‘আমার ছেরা (ছেলে) মরার হর থাইক্যা খাইয়া না খাইয়া কষ্টের মাঝে দিন কাডাইতাছি। যেহানে খাইয়া বাঁচা দায় হেইনো মামলা চালাই ক্যামনে? আমার ছেরারে যারা মারছে আমি তারার বিচার চাই।’
মধ্যনগর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস বলেন, ‘আসামি পক্ষ থেকে যদি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় তাহলে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]