বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তে সবচেয়ে বড় বালু পাথর মহাল ধোপাজানে ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডব চলছে। বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে পাড় কেটে পাথর উত্তোলন করছে শতাধিক ড্রেজার মেশিন। বুধবার পাড় কেটে পাথর তোলার সময় এক তরুণ শ্রমিক বুক পর্যন্ত মাটি চাপা পড়েছিল। পরে অন্যান্যরা এসে মাটি কেটে ওই শ্রমিককে তুলে এনে প্রাণ বাঁচান।
স্থানীয়রা জানান, ধোপাজান নদীর পাড়ের কাইয়ারগাঁও, আদাং ও কালীপুর ডলুরা এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডব বেড়েছে। পাড় কেটে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর করে প্রতিদিন এক-দুই লাখ ঘনফুট পাথর উত্তোলন হচ্ছে ওই এলাকায়। অথচ. সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মহালে বালু-পাথর উত্তোলনে।
পশ্চিম ডলুরার তরুণ মো. ওয়াদুদ মিয়া জানালেন, আদাং এলাকায় নদীর পাড়ে তার জমি ছিল, ওই জমির বেশিরভাগই ড্রেজার মেশিন ওয়ালারা কেটে নদীতে মিশিয়ে দিয়েছে। ওখানে এখন ৪০-৫০ ফুটের গর্ত। এরকম পাড়ের অনেক জমিই মালিককে জিজ্ঞেস না করেই দিনে রাতে কেটে নদীতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও সহাস পায় না কেউ।
ডলুরার বারকী শ্রমিক আমীর উদ্দিন ও হিরণ মিয়া বললেন, আমরা নদীতে নামতেই পারি না। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন বাধা দেয়। অথচ. নদীতে শতাধিক ড্রেজার মেশিন নিয়মিত চলছে।
উত্তর ডলুরার একজন পাথর শ্রমিক (নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ রয়েছে তার) জানালেন, ড্রেজার মেশিনের মালিকরা সহজে বেশি পাথর তোলার জন্য এখন নদীর মাঝখানে নয়, পাড়ে বোমা মেশিন লাগায়। তাতে পাড় ভাঙছে, তীরের নীচে ৪০-৫০ ফুট গর্ত হচ্ছে, অনেক সময় তারা নিজেরাও বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ছে। গত বুধবার উত্তর ডলুরায় কাইল্লা (১৮) নামের এক তরুণ শ্রমিক পাড়ে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে নীচে পাথর উত্তোলনের কাজ করছিল। এসময় পাড় ধ্বসে বুকসমান পর্যন্ত মাটি টাপা পড়ে ছেলেটি। পরে মাটি কেটে বের করতে হয় তাকে।
পশ্চিম ডলুরার একাধিক তরুণ জানালেন, নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলনে সরকারের নিষেধাজ্ঞা আছে। অথচ ‘উজানভাটি, টোল ট্যাক্স’সহ নানা নামের রশিদ দিয়ে কিছু লোকজন ওখানে (চলতি নদীর ভেতরেই) চাঁদাবাজীও করছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা বলেন, সম্পুর্ণ অন্যায়, অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে ওখান থেকে পাড় কেটে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি বা সামাজিকভাবেও কেউ এসবের প্রতিবাদ জানায় না। আমরা যখন ওখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত করার জন্য অফিস থেকে রওয়ানা দেই, তারা আগেভাগে জেনে যায়। ওখানে গিয়ে কিছু ভাঙাছোরা যন্ত্রপাতি ছাড়া কিছুই পাই না। স্থানীয় লোকজন এসব বিষয়ে সোচ্চার না হলে কেবল প্রশাসনের পক্ষে এই অপকর্ম বন্ধ করা কঠিন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কঠোর হলে স্থানীয় অন্যান্য পক্ষের সহযোগিতাও কম পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করলেন এই কর্মকর্তা।