- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুনামগঞ্জে সবজি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে -জেলা প্রশাসক

আকরাম উদ্দিন    
‘সুনামগঞ্জের কৃষি, ভাবনা দিবানিশি’ এই স্লোগানের মধ্যদিয়ে ইইপি,সিঁড়ি-উন্নতি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও খাস জমির দলিল হস্তান্তর পূর্ব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশনের আয়োজনে বুধবার সকালে শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির      
বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রিডিরেক্টর ক্যাসপার গ্রোসেনব্যচার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং ডীন ড. এ জেড এম মঞ্জুর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. লুৎফুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক, ইইপি, সিঁড়ির সিএফও এবং ডেপুটি টীম লিডার আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সীডের সিইও কৃষিবিদ ড. শফিকুল আখতার।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহেদ হাসানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। পরে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.আব্দুল মোতালিব, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মাহবুবুর রহমান পীর, বিন্দু তালুকদার, আকরাম উদ্দিন, দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, শহীদনুর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভা শেষে আরও ৮জন ভুমিহীনদের মধ্যে খাস ভুমির দলিল প্রদান করা হয়।
গত তিন বছরে ৯০৪ জন ভুমিহীনকে ৫০৭ একর খাসভুমি করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহেদ হাসান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রিডিরেক্টর ক্যাসপার গ্রোসেনব্যচার বলেন, ‘হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন জেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য। ভুমিহীনদের মধ্যে খাস জমি প্রদান করা হয়েছে। এইসব জমি আবাদ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করতে হবে সকলে।’
মুলপ্রবন্ধ উপস্থাপনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং ডীন ড. এ জেড এম মঞ্জুর রশিদ বলেন, ‘বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকে কিন্তু সকল প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য একটাই। সেটি হলো উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাওয়া। এরমধ্যে আছে সীমাবদ্ধতা ও নীতিমালা। প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উন্নয়নকে শক্তিশালী করা।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সীডের সিইও কৃষিবিদ ড. শফিকুল আখতার বলেন, ‘মানুষকে যদি প্রযুক্তি শেখানো যায় এবং এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো যায়, তবেই দেশের উন্নয়ন হবে। মানুষের মুখ থেকে আকাল, অভাব আর নাই নাই শব্দ উঠে যাবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাওর-বাওর অধ্যুষিত এই সুনামগঞ্জ জেলায় কাজ করা একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে সকলের। সবজি ও মাছের চাষ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করি। আমি সুনামগঞ্জে এসেই বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সবজি চাষের উদ্বাধনের ব্যবস্থা করি। এরপর থেকে প্রচার শুরু করে দিয়েছি যত খালি জায়গা বা জমি আছে। সব স্থানেই সবজি চাষ করার জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। খাস জমিতে যে কোনো সবজি বা ধান চাষের জন্য ব্যবস্থা করে যাচ্ছি এবং প্রেরণা যোগাচ্ছি মানুষকে। ‘সুনামগঞ্জের কৃষি, ভাবনা দিবানিশি’ এই স্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা। সবজি চাষ এখন অনেকটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

  • [১]