স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের সর্বত্র গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতায় মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। অফিস-আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও গরমে অতীষ্ঠ হয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন। প্রচন্ড রোদের উত্তাপে কৃষক ও দিনমজুরদের অনেকে তাদের দৈনন্দিন কাজে যেতে পারেন নি। এই কারণে তাদের জীবন জীবিকায় ভাটা পড়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটা এই মৌশুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে বৃষ্টি হবে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হবে শুক্রবার থেকে। তবে বেশি বৃষ্টি হবে শনিবার।
সপ্তাহব্যাপী টানা তীব্র গরমের বৃহস্পতিবার ছিল সুনামগঞ্জে বেশি গরম। এই গরমে ছোট-বড় সকলে হাঁপিয়ে উঠেছেন। স্কুল-কলেজে ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। সদর উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুল আলম রাসেল জানান, এই গরমে উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে। অসহ্য গরমে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনোযোগি হয়ে পড়েছে। তবুও ক্লাশ নিতে হয়েছে।
গরমের তীব্রতায় ঘেমে শরীরে ভেজা কাপড় বেশি সময় পরনে থাকায় ঘামাচিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এই গরমে ছোট-বড় অনেকেই ঘামাচি এলার্জিতে আক্রান্ত হয়েছেন। গরমের যাতনায় কোলের শিশুদের কষ্ট হচ্ছে বেশি।
শহরতলীর হাছনবাহার গ্রামের কৃষক আব্দুর রকিব বলেন, ‘রোদের প্রচন্ড গরমে জমিতে কাজ করা যাচ্ছে না। একটু সময় কাজ করলে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। এমন গরমে কাজ করা সম্ভব নয়।’
উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরে ফ্যানের বাতাসও দারুণ গরম। তাই নদীপাড়ের বাতাসে সারা দিন সময় কাটিয়েছি। রাতে আবার বিদ্যুতের লোডশেডিং। জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’
মইনপুর গ্রামের দিনমজুর কাছম আলী (৭৫) বলেন, ‘আমি শহরে গিয়ে দিনমজুরী কাজ করি। রোদের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি। সংসারের খরচ যোগাতে পারিনি।’
সিলেট অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটি এ মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে বৃষ্টি হবে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হবে শুক্রবার থেকে। তবে বেশি বৃষ্টি হবে শনিবার। তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশংকা নেই।’