- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুনামগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের মিল অনেক

সজীব দে
ছাতক উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৬৪ জেলার মধ্যে ৪০টি জেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়ে গেলো। ৪১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো ইনশাল্লাহ মুজিববর্ষের মধে শতভাগ বিদ্যুতায়িত হবে। আমরা বাংলাদেশের সব ঘরে আলো জ্বালাবো।’ অনুষ্ঠানে বর্তমানে দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে বলে জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একজন সুবিধাভোগী ও একজন বাউল শিল্পী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ’র সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগী খামারী নুরুল আলম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, হাওরাঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যলয়, রেল লাইন ও হাওরের উপর দিয়ে ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, হবার পথে। আমি বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাশ করে প্রচলিত চাকরিতে না গিয়ে কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খাতকে নিজের পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছি। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার হাওরের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা পাওয়ার কারণে আমি অধিক লাভবান হচ্ছি। আগে বছরে একবার মৎস্য চাষ করতে পারতাম। এখন সেচ সুবিধার কারণে বছরে দুই বার মৎস্য চাষ করতে পারছি। আগে হাওরের মৎস্যজীবী ভাইয়েরা মাছ সংরক্ষণ করতে পারতেন না। শতভাত বিদ্যুতায়িত হবার ফলে বরফকলের সুবিধা বেড়েছে। মাছ সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। একদিন এই হাওর অঞ্চল দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে উপনীত হবে।
খামরী নুরুল আলম’র বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুনামগঞ্জের সুনাম আরো বৃদ্ধি পাক। সেটাই আমরা চাই। সুনামগঞ্জ আর গোপালগঞ্জের অনেক মিল রয়েছে। দুই অঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল। এজন্য আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষাসহ সকল বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছি। আমরা এবার সুনামগঞ্জের বাউল গান শুনতে চাই।
এসময় বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের পুত্র শাহ নুর জালাল বলেন, জাতির পিতা যখন দিরাই এসেছিলেন, তখন আমাদের বাড়ির সামনে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। আমি তখন ছোট। আমার বাবা সেখানে গান করেছিলেন। আবার ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাবা আপনাকে উদ্দেশ্য করে একটি গান লিখেছিলেন। এরপর শাহ্ নূর জালাল যন্ত্র ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীকে বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের লেখা একটি গান শুনান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাই-টেক পার্ক, ট্রেনিং সেন্টার, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নসহ পাঁচটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ থেকে বাংলাদেশের ৪১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হলো। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের সব ঘরে আলো জ্বলবে। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না।
‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এই পর্যন্ত সারা দেশে আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। প্রযুক্তিতে সারা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সে কারণে আমরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমরা এমনভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই, যেন বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের চাইতে কোনো অংশে পিছিয়ে না থাকে। আমরা আইসিটি এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়ে তুলতে চাই। এজন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, কর্মমুখী শিক্ষা ও আইটি শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ কারণে আজ অনেকেই আউটসোর্সিং করে অনেক টাকা রোজগার করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালের একটি মোবাইলের দাম ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিএনপির একজন নেতা এই মোবাইল কোম্পানির মালিক ছিলেন। তখন একটি কল ধরলেও ১০ টাকা, কল করলেও ১০ টাকা মিনিট খরচ হত। এখন সকলের হাতে হাতে মোবাইল। আমাদের তরুণরা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করছে। আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত একটি দেশ হবে। এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বিশ্বের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, সে জন্য আমরা ২১০০ সালকে সামনে রেখে ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, এর ওপর একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম। বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর উপস্থাপনা এবং ভিডিওচিত্র পদর্শন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনা ইদ আহ্ মেদ পলক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল রহমান, পল্লী বিদ্যুতের জিএম অখিল সাহাসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বাউল শিল্পী, প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা।

  • [১]