বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অফিসের দুই গাড়ী চালকই ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছেন। কাগজে পত্রে সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অফিসের একজন গাড়ী চালকের নাম রায়হান আহমেদ, বাড়ী শাহীঈদগাহ, সিলেট। অপর গাড়ী চালকের নাম পীর মো. সুফি মিয়া, বাড়ী বাদে সাধকপুর, মোল্লাপাড়া, সুনামগঞ্জ। কিন্তু এই দুই চালকের স্থলেই গাড়ী চালাচ্ছেন এবং বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন গণপূর্তের অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মচারী আবুল কাসেম ও বিল্লাল মিয়া।
গণপূর্ত অফিসের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা যায়, আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার ঠিকাদার রাজা মিয়া সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অফিসে প্রায় ১৭ হাজার টাকা বেতনে গাড়ী চালক হিসাবে চাকুরি দেন পীর মো. সুফি মিয়া ও রায়হান আহমদকে কিছুদিন চাকুরি করার পর বছর খানেক আগেই এই দুজনই চাকুরি ছেড়ে চলে যান। এরা চলে যাবার পর থেকেই গণপূর্তের অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মচারী বিল্লাল মিয়া ও আবুল কাশেম এর দুজন সুফি মিয়া ও রায়হান আহমদের কাগজপত্র দিয়েই চাকুরি করছেন, গাড়ী চালাচ্ছেন। বেতন ওভারটাইম সবই উত্তোলন করছেন। সুফি মিয়া ও রায়হান আহমেদের মোটর ড্রাইভিংয়ের কাগজপত্রও তারা ব্যবহার করছেন।
জানতে চাইলে গণপূর্তের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আবুল কাশেম বলেন, রায়হান আহমেদের স্থলে আমি কাজ করছি। অফিস থেকেই আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাসে ১৭ হাজার টাকা আমাকে দেওয়া হয়। ওভার টাইমের টাকা আমি পাই না, কে নেয় জানি না।
বিল্লাল মিয়া জানালেন, আমি সুফি মিয়ার বদলে কাজ করছি। আমাকে মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকী টাকা অফিসের লোকজনই রেখে দেয়। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য বিআরটিএ অফিসে কাগজ জমা দিয়েছি।
গণপুর্তের সদ্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবিল আয়ান বলেন, নতুন চালক হলে অনেক কিছুই চিনবে না। এজন্যই পুরাতন লোকদের রাখা হয়েছে। এরা এক সময় অফিসের স্টাফ ছিল।
আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদার রাজা মিয়া বললেন, আমার জানামতে ওখানে সুফি মিয়া ও রায়হান আহমদই বেতন নিচ্ছেন। কাগজপত্র দেখলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে।
সুনামগঞ্জ বিআরটিএ’র মোটর যান পরিদর্শক রাসেল আহমদ জানালেন, এভাবে একজনের মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আরেকজন গাড়ী চালাতে পারেন না। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে, চালক পালিয়ে গেলে, কাগজপত্র যার নামে সেই দায়ী হবে। সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা কীভাবে এটি অনুমতি দিলেন, সেটিও বুঝতে পারছি না।