শহীদ নূর আহমেদ
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কের চলাচলকারী অধিকাংশ বাসের বেহাল দশা। লক্কর-ঝক্কর বাস দিয়ে যাতায়াত সেবার নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বাস মালিকরা। এসব ত্রুটিপূর্ণ বাসগুলো মেরামতের জন্যে একাধিকবার বিভিন্ন মহল থেকে দাবি তোললেও বাস মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষ বাস মেরামত করেননি।
তবে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ত্রুটিপূর্ণ বাসগুলো মেরামতের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান সমিতির কর্তৃপক্ষ।
জগন্নাথপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সুত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ- জগন্নাথপুর সড়কে চলাচল করছে ৩৫টি বাস।
প্রতি ২০ মিনিট পর পর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়ছে একটি । ৪৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৫৭ টাকা। যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুর সড়কে বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কে চলাচলকারী বাসের অধিকাংশ পুরাতন লক্কর-ঝক্কর। বাসের সামন ভাগের ছাউনি ভাঙ্গা নতুবা তেতলা। দরজা জানালার কাঁচ ও লকের অবস্থা করুণ। সিটের অবস্থা খারাপ ও ছেঁড়া। সিটের হাতলগুলো নড়বরে। ভেতরে প্রায় লাইট অকোজো। ইঞ্জিনের শব্দেই বাসের অসুস্থতার কথা জানান দেয়। কিছু কিছু বাস চালু করতে প্রয়োজন পড়ে ৮-১০ জন লোকের সাহায্যের। অধিকতর দুর্বল বাসে তোলা হয় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী। সিট না পাওয়ায় দাঁড়িয়ে পথ অতিক্রম করতে দেখা যায় অনেক যাত্রীদের।
এনামুল হক নামে আরেক যাত্রী বলেন, সড়কে বাসের সংখ্যা খুবই কম। রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। র্দীঘ সময় সময় অপেক্ষা করার পর যদিও বাস আসে কিন্তু বাসে উঠলে সিট পাওয়া যায় না। দাঁড়িয়ে যেতে হয় ।
জগ্নাথপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নিজামুল করিম বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ বাসগুলোকে মেরামতের জন্যে বাসমালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে পুরনো বাসগুলো মেরামতের আওতায় আনা হবে। বাস মালিকরা যদি বাস মেরামত না করেন তাহলে তাদের সমিতি থেকে বহিস্কার করা হবে।’
নিজামুল করিম বলেন, ‘বাসের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হচ্ছে। রোডে ভর্তি হওয়ার জন্যে সমিতির সাথে অনেকেই যোগাযোগ করছেন । আসা করছি সড়কে গাড়ির সংখ্যা আরো ভাড়বে।’