- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা সময়ের দাবি

৮০ ভাগের উপর বোরো ফসলহানির পর জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বুধবার সভা সমাবেশ মিছিল বিক্ষোভ করে এরকম দাবি তুলেছেন সদর-বিশ্বম্ভরপুর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও তাঁর দল জাতীয় পার্টি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন এবং হাঁওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন নামক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় সভা-সমাবেশ করে এরকম দাবি উত্থাপন করছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। দুর্গত এলাকা ঘোষণার পাশাপাশি এইসব সভা-সমাবেশে আর যে দাবিটি সবচাইতে উচ্চকণ্ঠে জানানো হচ্ছে সেটি হলো হাওর দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্য এবং দুর্নীতিবাজ পাউবো কর্মকর্তাগণের বিচার। ঠিকাদার-পাউবোর উচ্ছিষ্টভোগী একটি ক্ষুদ্র অংশ ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছে যে, এবার ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাডের আকার এতই বিশাল ছিলো যে, কোন বাঁধেই ফসলহানি রোধ করা সম্ভব হতো না। এটি হলো ডাকাতির পর ঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ডাকাতকে অপরাধ কর্মকা- থেকে রেহাই দেওয়ার মত একধরনের মতলবি প্রচারণা মাত্র। আমরা দেখেছি অধিকাংশ বাঁধই পানির প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাঁধে সময়মত কাজ শুরু হয়নি। বহু বিলম্বে শুরু হওয়া কাজ নামমাত্র করা হয়েছে, কোথাও কোথাও গতবছরের মাটি ড্রেসিং করে শেষ দেখানো হয়েছে। এমন লুটপাটের বিষয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষে যারা ওকালতি করেন এখন সময় এসেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে জনগণের শত্রু হিসেবে সকলের সামনে উপস্থাপন করা।
সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। আমরা জানি না সরকারি দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে ক্ষয়-ক্ষতির কী তথ্য গেছে। সরকারি দপ্তরগুলো এই ধরনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে দারুণ অনীহা বোধ করেন। গতবছর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এরকম অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ অনেক গুন কমিয়ে দেখিয়েছিলো। এবারও ভিতরে ভিতরে এরকম কোন গুপ্ত পরিকল্পনার আয়োজন চলছে কিনা আমরা জানি না। প্রশাসন এত বড় দুর্যোগে কোন নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করে নি। না জেলায় না উপজেলায়। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থাকলে ক্ষয়-ক্ষতির সার্বিক একটি ধারণা পাওয়া যেত। গণমাধ্যমকে কৃষি বিভাগ একেকসময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে থাকে। গত পরশু দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে  প্রায় এক লাখ হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন কৃষি বিভাগ যা আবাদকৃত মোট বোরো জমির পঞ্চাশ শতাংশের কম। অথচ ওইদিন পর্যন্ত জেলার কেবলমাত্র শনি ও পাগনার হাওর ছাড়া আর কোন বড় হাওর তলিয়ে যাওয়ার বাকি ছিল না। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের কাছে ক্ষয়-ক্ষতির যে ধারণা রয়েছে সে মোতাবেক সার্বিক ফসলহানির পরিমাণ আশি শতাংশের নীচে নয়। এই ক্ষতির চিত্র মন্ত্রণালয় ও সরকারকে অবহিত করা আশু প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। সরকার পরিসংখ্যান ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।
এই জেলার কৃষিনির্ভর পরিবারের মানুষগুলো সারা বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন আক্ষরিক অর্থেই দুর্গত হয়ে পড়েছেন। জানা ইতিহাসে এরকম ফসলদুর্যোগ দেখে নি কেউ। স্মরণকালের এই ভয়াবহ দুর্যোগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মোকাবিলা করতে হলে সর্বাগ্রে জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিৎ। তাই জেলার সর্বস্তরের মানুষ যে দাবিতে আজ একাট্টা হয়েছেন সেটিকে জরুরিভিত্তিতে ধারণ করা সরকারের কর্তব্য। মানুষকে বাঁচাতে হবে। বাড়াতে হবে সরকারি সহযোগিতার পরিধি। তাই আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুনামগঞ্জের গণমানুষের এই দাবিটির পুনরুচ্চারণ করছি।

  • [১]