স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরতলির কালীপুর গ্রামের আব্দু মিয়া পহেলা রমজানের দিন শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় মল্লিকপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনের প্রধান ফটকের পাশের টেবিল থেকে আরেক পথচারীকে এক প্যাকেট ইফতার নিয়ে যেতে দেখেন, ওখানে লিখা দেখতে পান ‘সম্মানিত মেহনতি রোজদারদের জন্য ক্ষুদ্র প্রয়াস’ তিনিও এগিয়ে যান ইফতার রাখা ওই টেবিলের দিকে, দূরে দাঁড়ানো বিজিবি’র জওয়ান বললেন, আপনিও ইচ্ছে করলে ইফতার নিয়ে যেতে পারেন ভাই। এরপর থেকে আব্দু মিয়াসহ অনেক শ্রমজীবী মানুষই বিজিবি’র এই ইফতার নিয়ে যাচ্ছেন। ইফতারের সময় হবার আগে আগে প্রতিদিনই ওখানে ৫০ থেকে ৭০ প্যাকেট ইফতার রাখা হয়। সুনামগঞ্জ-সিলট সড়ক দিয়ে যাওয়া রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, ঠেলা চালকসহ অন্যান্য শ্রমজীবীরা এই টেবিল থেকে প্যাকেট করা ইফতার নিয়ে যান। এখন আর ইফতারের প্যাকেট রাখা টেবিলের পাশে কেউ থাকেন না। প্রত্যেকেই যে যার যার মত করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে একটি করে প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবি তাঁদের এই আয়োজনটির কোন প্রচারও করছে না, তুলছে কোন ছবিও। বুধবার এই আয়োজন দেখে এগিয়ে গেলে বিজিবি’র কয়েকজন জওয়ান একজন সংবাদকর্মীকে জানালেন, ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল মাকসুদুল আলম’এঁর উদ্যোগ এটি।
শহরের নবীনগর এলাকার রিক্সা চালক মনরঞ্জন ধর বলেন, রিক্সা নিয়ে যাওয়ার সময় এইখান থেকে একটি খাবার প্যাকেট নিয়ে যাই। এখানকার প্যাকেটের খাবার খেলে রাতে আর খেতে হয় না।
সুনামগঞ্জ ২৮বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল মাকসুদুল আলম’এঁর কাছে শ্রমজীবী মানুষের জন্য তাঁর এই মহৎ উদ্যোগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা বিভিন্ন ভাবে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শহরের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বিজিবি’র পক্ষ থেকে সামান্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। রোজার প্রথম দিন থেকেই আমাদের মূল ফটকের সামনে বিকেল ৫টার দিকে ৫০ থেকে ৭০ টি ইফতার প্যাকেট রাখা হয়। যারা নিতে চান যার যার মতো করে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবি’র সদস্যরা দূরে দাঁড়িয়ে শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে শ্রমজীবীরা ইফতারের প্যাকেট নিচ্ছেন কী না কেবল সেটি দেখেন। এই উদ্যোগ রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হবে।