- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/ জায়গা নির্ধারণের ঐকমত্য শিক্ষা কার্যক্রম শুরু পর্যন্ত বজায় থাকুক

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০২০ সনের ১৮ নভেম্বর। আইন পাসের ২ বছর অতিক্রম হওয়া সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগুয়নি। এর মাঝে কেবল উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মূল ও প্রথম যে কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ, সে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ মুখ থুবড়ে পড়ে। একসময় সুনামগঞ্জবাসী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বেশ সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। তবে আশার কথা হলো সম্প্রতি বরফ গলতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কার্যালয়ে জেলার ৬ সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ঐকমত্য অনুসারে প্রস্তাবিত জায়গাটি হলোÑ সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী আহসানমারা সেতুর পূর্বদিকের উত্তর-দক্ষিণ দিক নিয়ে অবস্থিত দেখার হাওরের অংশবিশেষ। ১৭ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনামন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ প্রস্তাবিত জায়গাটি দেখবেন। জায়গাসংক্রান্ত বিরোধ মিটায় সুনামগঞ্জের বিশিষ্টজনরা বেশ উৎফুল্ল মন্তব্য করেছেন। তাঁরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ নতুন উদ্যমে পূর্ণবেগে শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
পরিকল্পনামন্ত্রীর আগ্রহ ও উদ্যোগে সুনামগঞ্জে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যতম। তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার বিস্তারকল্পে সরকার জেলায় জেলায় এরকম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছে। সুনামগঞ্জ একটি বিশোল এলাকা। প্রকৃতি, জীবন, উৎপাদন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট। হাওর প্রধান এই জেলাটি কৃষিজ ও মৎস্য উৎপাদনের বিশাল এলাকা। উৎপাদনের এই দুই বড় জায়গায়ই আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এলাকার এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা হওয়ার কথা, যা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উন্নয়ন তরান্বিত করবে। অর্থনৈতিকভাবে সুনামগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ অস্বচ্ছল। এখানে কোনো শিল্প, কল-কারখানা না থাকায় কৃষি উৎপাদনের বাইরে কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সুনামগঞ্জের শিক্ষা হার সারা জেলার মধ্যে সর্বনি¤œ অবস্থানের কাছাকাছি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় এসব নেতিবাচক অবস্থাকে ধীরে ধীরে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবরে সুনামগঞ্জবাসী যেমন আনন্দিত হয়েছিলেন তেমনি যখন এটি নানা জটিলতায় আটকে গিয়েছিল তখন একই রকম হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী ও জেলার সংসদ সদস্যগণ অবশেষে মতানৈক্য দূর করে মতৈক্য প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হলেন, এটি সুনামগঞ্জবাসীর জন্য একটি বড় সুসংবাদ। এজন্য আমরা তাঁদের বিপুলভাবে অভিনন্দন জানাই।
এখন আর কোনো কালক্ষেপণ আমরা দেখতে চাই না। যেভাবে কুশিয়ারা সেতু হয়েছে, মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট হ্েচ্ছ; তেমন করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজও দ্রুত শুরু হোক, এই আমাদের একান্ত কামনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জাগ্রত হওয়ার সময়ে আমরা কিছু পুরনো প্রত্যাশার কথা নতুন করে শুনাতে চাই। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবর্তে হাওরের পূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে একটি উপযুক্ত শিক্ষাদান কাঠামো তৈরি করা হবে। হাওরের প্রকৃতি, সম্ভাবনা, শিল্প-সংস্কৃতি ও জীবন নিয়ে সাজানো হবে এই শিক্ষা পরিকল্পনা। একটি এলাকার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে সাধারণ শিক্ষার সাথে একে সংযুক্ত করা হলে তা বহুল সমাদৃত হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা রাখারও জোর দাবি আমাদের। এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি কুপম-ুকতা ছড়ানোর পরিবর্তে প্রকৃত অর্থেই বিজ্ঞানভিত্তিক একটি অর্থবহ ও সফল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক এই আমাদের কামনা।

  • [১]