- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর যোগাযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন

চলতি নদী দিয়ে পাহাড়ী ঢল নেমে ডলুরা গ্রাম, মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিজিবি ক্যাম্প বিলীন হবার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর সীমান্ত এলাকাসহ উপজেলা সদরের আশপাশে আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে, বিশ্বম্ভরপুরের চলতি নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ টি বাড়ি ভেঙেছে। মুক্তিযোদ্ধার কবরস্তান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং
সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্প হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বললেন, চতুর্থ দফা বন্যার কবলে পড়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরসহ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ।
গত চারদিনের লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের তিনটি অংশে পানি ওঠেছে। সড়কের লালপুর ও শক্তিয়ারখলা অংশে হাটু থেকে কোমর সমান পানি। সালামপুর অংশের সেতুর অ্যাপ্রোচ পাহাড়ী ঢলে ভেসে গেছে। সেতুও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা সদরের ভূমি অফিসে পানি ওঠেছে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর সামনেও হাটু সমান পানি।
এদিকে, পাহাড়ী ঢল অব্যাহত থাকায় চলতি নদী দিয়ে নেমে আসা ঢলে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ডলুরা গ্রামের আব্দুল মালেক, সিরাজ মিয়া, রাশিদ মিয়া, শাজাহান মিয়া, শাহ্ফরান মিয়া, সাহাবুদ্দিন মিয়া, নুরুল গণি ও জয়নাল আবেদীনের বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ডলুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্র, ডলুরা বিজিবি ক্যাম্প এবং মুক্তিযোদ্ধার কবরস্তান।

পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর সড়কের স্থানে স্থানে এমন দুর্ভোগ দেখা দেয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় সড়কের লালপুর এলাকা থেকে তোলা ছবি।


অন্যদিকে, লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট চতুর্থ দফা বন্যায় বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় সকল আমন জমি পানিতে ডুবেছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার লামাগাঁও গ্রামের কৃষক প্রভাত দাস জানান, ২০ একর আমন জমি চাষ করেছিলেন তিনি। সবটুকুই পানির নীচে গেছে। বাড়ির উঠোনে আবার হাটু সমান পানি। প্রভাত দাস বললেন, ‘বাঁচার আর কোন পথ খোলা থাকছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন জানিয়েছেন, এক হাজার ৯০০ হেক্টর আমন জমি পানিতে ডুবার খবর পেয়েছেন তারা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস শুক্রবার দুপুরে জানান, চতুর্থ দফা বন্যার মোকাবেলা শুরু করেছেন তারা। তিনি জরুরি প্রয়োজনে সুনামগঞ্জে যাচ্ছেন ট্রলারে করে। উপজেলা সদরেও পানি ওঠে গেছে। ডলুরায় পাহাড়ী ঢলে মুক্তিযোদ্ধার কবরস্তান চলতি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শুনে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। ওখানে তিনিও যাবেন বলে স্থানীয়দের জানিয়েছেন।

  • [১]