স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জনপ্রিয় চার ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। চারজনেরই কম উপসর্গ রয়েছে। তারা নিজ বাসায়ই আইসোলেশনে আছেন। আক্রান্তরা হলেন- সদর হাসপাতালের অর্থপেডিক্সের চিকিৎসক ডা. শ্যামল চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিপিকা দাস, মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. জহর লাল দাস ও ডা. সৈকত চন্দ্র দাস।
গত ১৫ জুলাই শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করালে শরীরে করোনা সনাক্ত হয় ডা. জহর লাল দাসের । একই দিনে তার স্ত্রী পম্পা পুরকায়স্থের শরীরেও করোনা সনাক্ত হয়।
ডা. জহর লাল দাস সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের জনপ্রিয় চিকিৎসক। শহরের বাঁধনপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষাবিদ যোগে¦শর দাসের ছেলে জহর লাল মানবিক ডাক্তার হিসাবেই পরিচিত। জহর লাল অসুস্থ্য হওয়ায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আউটডোরে রোগিরা চিকিৎসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন।
জহর লাল ও তার স্ত্রী পম্পা নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। জহল লাল জানিয়েছেন, তার শরীর ভালোই আছে। ধীরে ধীরে খাওয়ার রুচি বাড়ছে।
অর্থ পেডিক্সের চিকিৎসক হলেও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে আর কোন চিকিৎসক না থাকায় এই বিভাগের রোগীদের ভরসা ডা. শ্যামল চন্দ্র বর্মণ। গত ১৯ জুলাই তার শরীরে করোনা সনাক্ত হওয়ায় সার্জারী বিভাগ ডাক্তার শূণ্য হয়ে পড়েছে।
শ্যামল বর্মণের স্ত্রী ডা. লিপিকা দাসও শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একমাত্র স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ তিনি। তার অসুস্থ্যতায় হাসপাতালে স্ত্রী রোগের চিকিৎসা দেবার কেউ থাকলো না। ডা. লিপিকা দাস জানিয়েছেন, তার স্বামীর শরীরে থেমন কোন উপসর্গ নেই। তবে খাবার রুচি আসেনি এখনো। নমুনা পরীক্ষায় শুক্রবার তার শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে। গলা ব্যাথা ও সর্দি-কাশি আছে শরীরে, জ¦র কম আছে।
সুনামগঞ্জ বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক জনপ্রিয় তরুণ চিকিৎসক সৈকত দাস সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সুখেশ চন্দ্র দাসের ছেলে সৈকতও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রিয় চিকিৎসক।
বিনয়ী-সামাজিক ডা. সৈকত গত বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হন।
শুক্রবার বিকালে সৈকত জানিয়েছেন, তার শরীরে থেমন কোন উপসর্গ নেই। আশা করছেন দ্রুত সেরে ওঠবেন তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫৯ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও ডাক্তার আছেন ১৫ জন। এরমধ্যে চারজন অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক অসুস্থ্য হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বললেন, কম ডাক্তার নিয়ে কোনভাবে চালানো হচ্ছে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। সার্জারী বিভাগের বিশ^জিৎ গোলদার বদলী হবার পর অর্থ পেডিক্সের শ্যামল বর্মণ কাজ চালাচ্ছেন। তিনি অসুস্থ্য হওয়ায় এই বিভাগ ডাক্তার শূণ্য হয়ে পড়েছে। গাইনী বিভাগের একমাত্র কনসালটেন্ট ছিলেন লিপিকা দাস। তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এই বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেল। জরুরি ভিত্তিতে সার্জারী ও স্ত্রী রোগ বিভাগে ডাক্তার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানালেন, যেহেতু ডাক্তারদের করোনা টিকা নেওয়া আছে। তারাই দ্রুতই সুস্থ্য হয়ে ওঠবেন।