শহীদনূর আহমেদ
অকাল বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা ধান পঁচে পানি দূষিত হয়ে মাছ ভেসে ওঠার খবর স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায়গুলোতে ফলাওভাবে প্রচার হচ্ছে গত কয়েকদিন যাবত। হাওরের এই দূষিত পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ায় নদীর মাছও তীরের কাছে ভেসে ওঠতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সদর উপজেলায় সুরমা নদীর ধারারগাঁও থেকে নবীনগর পর্যন্ত এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছ ধরেছেন। কোনা জাল, লাটি জাল, ফলাসহ অসংখ্য দেশীয় মাছ ধরার যন্ত্র দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায় শহরতলী ও আশে-পাশ এলাকার লোকজনদের।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, হাওরের ধান পঁচে যাওয়ায় পানিতে অস্বাভাবিক হারে হাইড্রোজেন সালফাইট ও এমোনিয়া গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণে পানির অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে। মাছের স্বাভাবিক জীবন ধারণের জন্য পানিতে যেখানে ৫ থেকে ৭ পিপিএম অক্সিজেন থাকার কথা সেখানে হাওরে দূষিত পানিতে ২ থেকে ৪ পিপিএম অক্সিজেন রয়েছে। যে কারণে অক্সিজেনের অভাবে মাছ ভেসে ওঠেছে। আর এই বিষাক্ত পানি সুরমা নদীতে প্রবেশ করায় নদীর মাছ ভেসে ওঠছে।
হালুয়ারঘাট এলাকার জমির হোসেন জানান, সকালে মাছ ভেসে উঠার খবর পেয়ে ধরতে আসি। আমার মত শত শত মানুষ সুরমা নদীতে কোনা জাল, ঠেলা জাল ও বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার যন্ত্র নিয়ে মাছ শিকার করতে নামে। আইড়, কালিবাউস. রুই, বোয়াল, গলদা চিংড়ি, বাইমসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ ধরছেন শহরতলী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন।
হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর এবার মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হওয়ার কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন হাওর সংশ্লিষ্টরা। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০ ভাগ বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর হাওরের কৃষকের বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার যে সুযোগ সামনে ছিল, পানি দূষণের ফলে মাছ মরে যাওয়ার কারণে সেটি নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন হাওরপাড়ের মানুষজন।
হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ফসল হারিয়ে সুনামগঞ্জের মানুষের একমাত্র বাঁচার অবলম্বন ছিল হাওরের ভাসান পানির মাছ। কিন্তু যেভাবে হাওরে মাছ মারা যাচ্ছে তাতে সুনামগঞ্জের মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির মুখে পড়বে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শংকর রঞ্জন দাস জানান, মাছের জীবনযাপনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হাওরের পানিতে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য ১০টি হাওরে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চুন ফেলা হচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হাওরগুলো পরিদর্শন করছি। এই অবস্থায় হাওরে মাছ না ধরাতে এবং মৃত মাছ না খেতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।