স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সোনালী ব্যাংকের কর্মচারি (খাতা এন্ট্রিকারী) আব্দুল গফুর অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সোনালী ব্যাংকের ভেতরে
এই ঘটনা ঘটে। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা উত্তেজিত হয়ে উঠলে ব্যাংকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ, উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ব্যাংক ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অনাকাঙ্খিত এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্যাংক ম্যানেজার।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে যান মুক্তিযোদ্ধাগণ। চেকের মাধ্যমে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংক থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু ব্যাংকের খাতা এন্ট্রিকারক আব্দুল গফুর মুক্তিযোদ্ধাদের বইয়ে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা লিখে দেন। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধারের নজরে পড়লে প্রতিবাদ করে অতিরিক্ত অংকের টাকা লিখার কারণ জানতে চান। বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজারকেও অবগত করেন মুক্তিযোদ্ধাগণ। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজারের নির্দেশও মানেননি আব্দুল গফুর। খবর পেয়ে সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মজিদ ব্যাংকে যান এবং বিষয়টির কারণ জানতে চান। এসময় আব্দুল গফুর তার সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এসময় ব্যাংকের ভেতর অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকে অবস্থানরত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটনও এগিয়ে যান। সবার হস্তক্ষেপে এবং সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মচারী আব্দুল গফুর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ব্যাংক কর্মচারী আব্দুল গফুর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এসময় সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মজিদ এগিয়ে গেলে তার সাথেও একই আচরণ করে। পরে সবার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনার জন্য সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মচারী আব্দুল গফুর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মো. সুজাদুল হক বলেন, ‘তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। সামান্য ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সাথে সাথেই মিটমাট করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাগণ খুশি হয়ে টাকা নিয়ে গেছেন।’