- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্তম্ভিত জালালপুরবাসী

আশিক মিয়া, জালালপুর থেকে ফিরে
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুরে সৌদী প্রবাসী একই পরিবারের ৬ জনকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটপাট ও বাড়ীর গৃহিনীকে গণধর্ষণের ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বললেন, ‘এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি জালালপুর বা আশপাশের গ্রামে’। সকালে প্রবাসীর ঐ বাড়ি থেকে নানা আলামত উদ্ধার করেছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ঐ বাড়িতে আরিফ নামের যুবকের নেওয়া রস মালাই এবং মিষ্টিও রয়েছে।
প্রবাসীর  প্রতিবেশি বাড়ির গৃহিনী আমিরুন নেছা বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে সৌদি প্রবাসী আব্দুল হাসিমের ছোট ভাই আব্দুল জব্বার আমাদের ডাক দিয়ে বলেন, মারুফদের ঘরের দরজা লাগানো, হাঁস-মুরগির ঘরের দরজাও খোঁলছে না, এগুলো ডাকাডাকি করছে, তোমরা একটু আসো, দেখি কী হয়েছে। পরে আমরা গিয়া তারারে ডাকি, দেখি ছেলেরা পিছলা ধরণের ভমি করে হেলে-দোলে পড়ছে, কথা বার্তাও বলতে পারছে না। পরে আমরা তাদের বিছানায় শুইয়ে দেই। ঘরের সকল আলমিরা খোলা, আলমিরার কাপড়- ছোপড় মেঝেতে রাখা’।
প্রবাসীর স্ত্রী’র কক্ষে গিয়ে তাঁকে অজ্ঞান অবস্থান বিছানায় শুয়া এবং কাপড়-ছোপড় পরনে নাই দেখে, আমরা ছালোয়ার পড়াই। তার কানের দোল ও নাকের ফুলও নেই।
আমিরুন নেছা বলেন, ‘দেইক্কা মনে অইছে, সম্পদও নিছে, ইজ্জতও নিছে’। তিনি জানান, প্রবাসীর ঐ স্ত্রী-ই তার পরিবারের সকল দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার আত্মীয় কে এসেছিল, তিনি ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারবে না। সকালে তার ভাসুরের ছেলে আজগর গ্রামের এক বিয়ে বাড়িতে ছিল, ওখান থেকে তাকে ফোন করে আনা হয়েছে, সে এবং আব্দুল হাসিমের ভাই সিএনজিতে করে অচেতন সকলকে হাসপাতাল নিয়ে গেছে’।
আমিরুন নেছার স্বামী সাদক আলী বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি, একদিন আগে ইলেকশনের মারামারির মামলা অইছে, বিচার অইছে, অখন আবার ই-ঘটনা, কোন মামলায় যে আসামী- কে অয় (হয়), সকালে ই-ঘটনার পরে আব্দুল হাসিমের ছেলেরা কইছে, রাইতে এক মামা আইছলা, মামা কে? এটি তারা বলতে পারছে না’।
এদিকে. শনিবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে আব্দুল হাসিমের স্ত্রী ও সন্তানদের দেখে আসেন।

  • [১]