ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতি পাচ্ছে না এক আদিবাসী নারী। ওই নারী স্ত্রীর স্বীকৃতির জন্য কালাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম লালনের বাড়িতে অনশনে বসলেও স্থানীয়দের আশ্বাসে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।
শিক্ষক আমিনুল ইসলাম লালন ওই নারীর পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা। ওই নারীর স্বামী থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে বিবাহিত লালনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় বলে দাবি আদিবাসী নারীর। যার সূত্র ধরে আদিবাসী নারী তার আগের স্বামীর ঘর থেকে চলে আসে। এর পরের বছর ওই নারী কাজের সন্ধ্যানে জর্ডানে যান এবং সেখান থেকেও মুঠোফোনে লালনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখেন। লালনও তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আদিবাসী নারী ২০১৬ সালে বাড়িতে এসে ৮ মাস অবস্থান করে এবং জর্ডান ফিরে যায়। প্রবাসে থাকাবস্থায় ওই নারীর কাছ থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লালন প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি ওই নারী জানতে পারে যে লালন বিয়ে করতে যাচ্ছে। তাই তিনি প্রবাস থেকে দেশে আসেন এবং লালনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু লালন তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে এবং বিয়ে করতে না করে দেয়। ফলে গত মঙ্গলবার লালনের বাড়িতে ওই নারী স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে বাড়ি ফিরে ওই নারী।
ভুক্তভোগী আদিবাসী নারী বলেন, ‘ধর্মীয় শরিয়ত মোতাবেক আমাদের বিয়ে হয়। আমি এখন তার ধর্ম পালন করি। কথা ছিল আমি দেশে আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবো। লালন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও স্বামীর অধিকার খাটিয়ে আমার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না।’
অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলাম লালন বলেন, ‘ওই নারী গত শনিবার আমাকে মহিষখলা বাজারে হয়রানী করেছে। যা নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি। ওই নারীর সব অভিযোগ মিথ্যা ও আমাকে হেয় করার জন্য এমনটি করছে।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, ‘ওই নারীর কাছ থেকে যে শিক্ষক টাকা নিয়েছে তার ডকুমেন্ট রয়েছে এবং তাদের সম্পর্কের ব্যাপারেও সত্যতা রয়েছে। ওই নারী তার টাকা নয়; বরং স্বামীর অধিকার চায়।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘বিষয়টি কেউ জানায়নি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’