ধর্মপাশা প্রতিনিধি
হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের সকল তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা। যাতে যে কেউ প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কাজের ধরণ, প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের শুরু ও শেষ সময়সীমার তারিখ, প্রকল্প কাজের সাথে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফসলরক্ষা বাঁধ ও মেরামত কাজের প্রকল্প এলাকায় থাকা রঙিন এবং স্বচ্ছ সাইনবোর্ডে রয়েছে অস্বচ্ছতার ছাপ। ফলে সেসব সাইনবোর্ড দেখে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারছে না কেউ। সাইনবোর্ডে বা অন্য কোথাও পিআইসির সকল সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ না করায় প্রকল্পের কাজের সাথে সম্পৃক্ত সদস্য কে বা কারা তা অধরা থেকে যাচ্ছে। ফলে কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকসহ হাওর আন্দোলনের নেতারা।
২০১৭ সালে হাওরে শতভাগ ফসলহানীর পর ফসলরক্ষা বাঁধ ও মেরামত কাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঠিকাদারী প্রথার বিলুপ্ত করে স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধ ও মেরামত কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তখন থেকে ১ জন সভাপতি, ১ জন সদস্য সচিব ও ৩ জন সদস্যসহ মোট ৫ জন কৃষকের সমন্বয়ে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি ) গঠন করার নিয়ম রয়েছে। গেল অর্থ বছর পর্যন্ত প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় পিআইসির ৫ সদস্যের প্রত্যেকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সম্বলিত সাইনবোর্ড দেখা গেছে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। প্রকল্পের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের সাথে শুধুমাত্র প্রকল্পের সভাপতি নাম ও তার মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে কে সদস্য সচিব আর কে কে সদস্য তা অজানা থেকে যাচ্ছে। যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা কি সত্যিই কৃষক, নাকি ‘সদস্য’ বলতে আদৌ কেউ নেই- এমন প্রশ্ন উঠেছে। ধর্মপাশার বিভিন্ন হাওরে বাঁধের কাজের সাইনবোর্ডে প্রকল্পের কাজ শুরুর যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তাও বাস্তবতার সাথে মিল নেই। সোনামড়ল হাওরে ৪৯ নম্বর প্রকল্পের কাজ গত ২১ জানুয়ারি শুরু হলেও সাইনবোর্ডে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ঘোড়াডোবা হাওরে ১৩১ ও ১৩৮ নম্বর প্রকল্পের কাজ গত ২৯ জানুয়ারি শুরু করা হলেও সাইনবোর্ডে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু এসব প্রকল্পের সাইনবোর্ডেই নয় বরং অন্যান্য প্রকল্পের সাইনবোর্ডেও উল্লেখিত প্রকল্পের কাজ শুরুর তারিখের সাথে বাস্তবিক কাজ শুরুর তারিখের কোনো মিল নেই।
২০২১-২২ অর্থ বছরে ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল, কাইল্যানী, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, গোড়াডুবা, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ ১৫৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
ধানকুনিয়া হাওরের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পুরো কমিটি কোথাও প্রকাশ না করায় কে কে কমিটিতে আছে তা বুঝা যায়না।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘অন্যান্য বছর সানইবোর্ডে পিআইসির সকল সদস্যের নাম উল্লেখ করা হতো। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। ফলে প্রকল্প এলাকায় সভাপতিকে না পাওয়া গেলে আর অন্য কাউকে সেখানে পাওয়া যায় না। সত্যিই অন্যান্য সদস্য আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।’
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘তথ্য বাতায়নে প্রতিটি প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য সচিবের নাম এবং মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে। সাইনবোর্ডেও মূল তথ্য স্কীমের নাম, মাটির পরিমাণ টাকা অংক রয়েছে। পুরো কমিটির তালিকা কেউ চাইলে সরবরাহ করা হবে।’