- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্বপ্নের জাদুকাটা সেতু/ স্বপ্ন বিলীন হওয়ার আগেই নির্মাণ কাজ শেষ করুন

তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা জাদুকাটা সেতু নিয়ে এলাকাবাসীর উৎসাহের অন্ত ছিলো না। উদ্বোধনের দিনে ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটেছিলো সেতু এলাকায়। আগত লোকজন এই সেতু নির্মাণের পর যোগাযোগ ব্যবস্থার কী উন্নতি হতে পারে সে নিয়ে ছিলেন সরব। ২০১৮ সনের এপ্রিল মাসে এমন বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়েই সেতুর কাজ শুরু হয়েছিলো। এলজিইডি সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তখন বলা হয়েছিলো, এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত দেশের বৃহত্তর সেতু এটি। এর দৈর্ঘ নির্ধারণ করা হয় ৭৫০ মিটার। গেল ২০২১ সনের ডিসেম্বরে সেতু নির্মাণের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এরপর আরও এক বছর শেষ হতে চলেছে। ৪ বছরেও সেতু নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় জনগণের উৎসাহে এখন ভাটা পড়েছে। সকলেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। আমাদের দেশে এই একটি সমস্যা। কোনো কাজ নির্ধারিত মেয়াদে শেষ করা হয় না। শতভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। কাজ শেষ করতে কেন অহেতুক অতিরিক্ত সময় লাগে তার কোনো সদুত্তর কখনও পাওয়া যায় না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়ার সাথে ব্যয় বাড়ার প্রবণতা দেখি আমরা। ব্যয় বাড়ানোর জন্যই বাস্তবায়ন কাজকে ধীর করে ফেলা হয় কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। অবকাঠামো নির্মাণ কাজে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ব্যয় হয় তা আমাদের আশপাশের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর উপর সময় বাড়ানোর সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যয় বাড়ার অশুভ বাস্তবতা উন্নয়ন কাজের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। বর্ণিত জাদুকাটা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি যে কথা বলছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেছেন, গত বন্যায় সেতুর নির্মাণকাজের কিছু কাঠামো ও উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। তার এই বক্তব্য এ কারণে গ্রহণীয় নয় যে, বন্যা হয়েছে গত মে মাসে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো এরও ৫ মাস আগে। দ্রুত কাজ শেষ করার কোনো উদ্যোগও নেই। সেতু এলাকায় গুটিকয় শ্রমিক কাজ করছেন বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দ্রুত কাজ শেষ করার কোনো দায় অনুভব করছেন না বলেই অনুমিত হয়। ঠিকাদার যখন ইচ্ছানুরূপ কাজ করার স্বাধীনতা পেয়ে যান তখন সেই কাজের কী অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমান সম্ভব।
বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কবন্দরসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈশিষ্টমণ্ডিত তাহিরপুরের পর্যটন এলাকাগুলোর যাতায়াত সহজ করতে এই সেতু অসামান্য ভূমিকা রাখবে বলে বলা হয়েছিলো। কিন্তু কেবল একটি সেতু দিয়ে পুরো যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেতুর উভয় প্রান্তে বিস্তীর্ণ সংযোগ সড়কের প্রয়োজনীয়তা এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক। কিন্তু এই সেতুর সুবিধা পেতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে আশা জাগার মতো কোনো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, বিশ্বম্ভরপুরের কারেন্টের বাজার থেকে জাদুকাটা সেতু পর্যন্ত একটি সড়ক, সীমান্ত ঘেঁষে অন্য আরেকটি সড়ক এবং এদিকে সেতু থেকে বাদাঘাট বাজার পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হলে এই সেতুর মাধ্যমে তাহিরপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোন হিসাবে গড়ে উঠবে। কিন্তু ওই সড়কগুলো তৈরির বাস্তবতা কই? খোদ তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকেই তো বাদাঘাট বাজার পর্যন্ত এখন পর্যন্ত কোনো ভালো সড়ক ব্যবস্থা তৈরি করা যায়নি। এভাবে বিরানভূমির উপর এত টাকা ব্যয় করে একটি সেতু নির্মাণের কী সার্থকতা থাকতে পারে সে প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের নিকট করা যেতেই পারে।
যাহোক দ্রুত সীমান্তবর্তী মানুষের স্বপ্নের জাদুকাটা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য আমরা এলজিইডি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

  • [১]