- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, কয়লা ব্যবসায়ীদের নতুন স্বপ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ শুল্ক বন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলীর আমদানীকারকরা। দক্ষিণবঙ্গের কয়লা ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিকদের এখন এই বন্দরগুলো থেকে কয়লা নিতে আগ্রহ বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গে এখনকার সমপরিমাণ কয়লা এই তিন বন্দর থেকে বিক্রি হলেও বছরে কমপক্ষে ১২ কোটি টাকা পরিবহন ভাড়া সাশ্রয় হবে জানিয়েছেন আমদানীকারকরা।
ভারতের মেঘালয়ের কয়লার চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশজুড়ে। এই কয়লা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত থেকে বাল্কহেড, কার্গোয় করে ভৈরব, রাজধানীর গাবতলী ও দাউদকান্দি যাবার পর ট্রাকে যায় দক্ষিণবঙ্গে। তাতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, সময় বেশি লাগে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সেই অবস্থা বদলে যাবে। দক্ষিণবঙ্গে তাহিরপুর সীমান্ত বন্দরের কয়লার চাহিদা বাড়বে, পরিবহন খরচও কমে যাবে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির কোষাধ্যক্ষ জাহের আলী বললেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলীর কয়লা আমদানীকারকদের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ভৈরব, দাউদকান্দি ও গাবতলী থেকে ৫-৬ দিনে কয়লার ট্রাক পৌঁছায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালি, ফিরোজপুর, বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। একারণে পরিবহন খরচ বেশি হয়, ক্রেতা বা ইটভাটার মালিকরাও এখানে আসতে চান না। পদ্মা সেতু হওয়ায় পথ সময় কমে যাবে। এক-দুইদিনে ট্রাকে কয়লা পৌঁছে যাবে ইটভাটায় বা ব্যবসায়ীর ডিপোতে।
তিনি জানালেন, গেল বছর বরিশালে এক হাজার টনের মতো কয়লা বিক্রি করেছেন। ক্রেতার পথ খরচ গেছে ১২ লাখ টাকার মতো। পদ্মা সেতু চালু হলে, সেই ব্যয় অর্ধেক কমে ছয় লাখ টাকায় নেমে আসবে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবুল খায়ের বললেন, বড়ছড়া-চারাগাঁও-বাগলীর কয়লার চাহিদা সারাদেশে থাকলেও এখানকার কয়লা নিতে আগ্রহীরা পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় এই কয়লা নিতে চান না। এখন আর সেই বাধা থাকলো না। আমাদের কয়লার বাজার আরও বেড়ে যাবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ আমরা।
বিশিষ্ট আমদানীকারক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বললেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকার ব্যবসায়ীরা আমাদের কয়লা কিনেন, পরে তারাই দক্ষিণবঙ্গে বিক্রি করেন। কিন্তু বিশাল পদ্মা পাড় হয়ে ট্রাক যাবার সময় কোন মৌসুমে কুয়াশায় ফেরী চলাচলে বিলম্ব হয়, ট্রাক আটকা থাকে, আবার কখনো বা বর্ষায় প্রচ- ¯্রােতের কারণে ফেরী চলাচলে বিঘœ ঘটে, ট্রাক আটকা রয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। পরিবহন খরচ অর্ধেক কমে যাবে। আমাদের কয়লার গ্রাহক বাড়বে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার বললেন, বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলীর ৫০০ আমদানীকারকের ১০০ থেকে ১৫০ জনের আমদানী কারক দক্ষিণবঙ্গে কয়লা বিক্রি করেন। কমপক্ষে দুই লাখ টন কয়লা এখান থেকে বছরে দক্ষিণবঙ্গে যায়। যার মূল্য প্রায় চারশ’ কোটি টাকা। প্রতিটন কয়লার পরিবহন খরচ কমপক্ষে ১২০০ টাকা। সেই হিসাবে বছরে দক্ষিণবঙ্গে কয়লা পরিবহনে খরচ হয় ২৪ কোটি টাকা। এই খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে অর্থাৎ ১২ কোটি টাকা বছরে কয়লা পরিবহনে সাশ্রয় হবে। এছাড়া এই বন্দরে দক্ষিণবঙ্গের ক্রেতাও বাড়বে। লেনদেন বাড়বে। তিনি তাহিরপুর সীমান্তের এই তিন বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজতর করার জন্য সীমান্তের পাটলাই নদী দ্রুত খননের দাবিও জানালেন।

  • [১]