বিশেষ প্রতিনিধি
বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সীতেশ রঞ্জন দে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে বালাটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য যান। এসময় তিনি রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বালাট সাব সেক্টরের অধীনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা সীতেশ রঞ্জন দে এর জীবদ্দশায় তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হয় নি। ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিতেশ রঞ্জন দে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী উমা রানী দে তার স্বামী সিতেশ রঞ্জন দে এর নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য কয়েকবার আবেদন করেন। ২০১৩ সালে উমা রানী দে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সীতেশ রঞ্জন দে’র ছোটভাই ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তভূক্তির জন্য ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সুপারিশ সহ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু অদ্যবধি বীর মুক্তিযোদ্ধা সীতেশ রঞ্জন দে এর নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্ত হয় নি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বালাট সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মোত্তালিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সিতেশ রঞ্জন দে কে সনদ প্রদান করেন। সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মোত্তালিব স্বাক্ষরিত পচিয়পত্র ও রিলিজ সার্টিফিকেটও ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) তালিকায় নাম ওঠেনি তাঁর।
সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের যে ক’জন সংগঠকের নেতৃত্বে এখানকার মুক্তিযোদ্ধা-জনতা পাক হায়েনাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিলেন। এরমধ্যে তিনি অন্যতম। প্রয়াত এই রাজনীতিকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। তাঁর সঙ্গে ওই সময়কালে যারা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, তাঁদের নাম তালিকায় ওঠেছে।
শাল্লার গোবিন্দপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুকুমার দাস এলাকার পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন, কিন্তু জামুকা’র মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম নেই। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালীপুরের আব্দুস সাত্তার, তাহিরপুরের বুরুঙ্গাছড়ার আব্দুন নূর, বড়ছড়ার হাফিজ উদ্দিন, মানীগাঁওয়ের ইদ্রিছ আলী, কইলসাজুড়ির তারা মিয়া, দোয়ারাবাজারের বশির আহমদ, আনোয়ারপুরের আব্দুস ছাত্তার, ঘিলাতলির জুবেদ আলী, উস্তেঙ্গেরগাঁওয়ের আব্দুর রশিদ, বাঁশতলার বজলুর রহমান, ঘিলাতলির কলমদর আলী, রইছপুরের মিরাজ আলী, নরসিংহপুরের রহমত আলী, বড়খালের আলী আহমদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেও মুকিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠাতে পারেন নি।
দোয়ারাবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী বললেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় নতুনভাবে আবেদন করা ১৮৫ জনের মধ্যে ২৮ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্রসহ সকল ডকুমেন্ট সুপারিশ করে উপজেলা কমিটি থেকে পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে ১৯ জনের নাম তালিকায় ওঠেছে। নয়জনের নাম এখনো তালিকায় ওঠেনি। এরা হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা।
তাহিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রৌজ আলী বললেন, তাহিরপুরে কয়েকজন আছেন আমরা সকলেই তাদের সম্পর্কে জানাশুনা আছে। এরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কাগজের সামান্য ত্রুটি বি”্যুতির কারণে এদের নাম তালিকায় না ওঠায় আমাদেরও খারাপ লাগে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ বললেন, বড়পাড়ার সাবেক ছাত্রনেতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হুমায়ুন কবির চৌধুরী’র নাম তালিকায় ওঠার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আরও কয়েকজন আছেন যারা যুদ্ধ করেছেন সকলেই জানেন, কিন্তু নানা জটিলতায় তাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি।
জেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন বললেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অনেকের নাম তালিকায় ওঠেনি। এটি দুঃখজনক। আমরা অগ্রবর্তী করার পরও এদের নাম তালিকাভুক্ত হয় নি।