- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্বাস্থ্যকর্মীদের কারণে লাখো মানুষ সেবা বঞ্চিত, ৪ জনকে শোকজ

অমিত দেব/ আলী আহমদ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্লিনিক প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। ফলে বিনামূল্যের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মেঘারকান্দি, নোয়াগাও, বাগময়না, নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভূরাখালি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
বাঘময়না গ্রামের বাসিন্দা সালেহ আহমদ জানান, সপ্তাহের মধ্যে  চার পাঁচ দিন ক্লিনিকটি বন্ধ থাকে। গতকালও বন্ধ ছিল। যে কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন।
ভূরাখালি গ্রামের আবদুল তাহিদ জানান, তাদের ক্লিনিটকে সপ্তাহে একদিন খোলা হয়। বাদী দিনগুলো বন্ধ থাকে। ফলে হাওরপাড়ের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়।
বাঘময়না কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সীমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আজকে (মঙ্গলবার) ক্লিনিকের অপর দুই স্বাস্থ্যকর্মী আসেন নি। তাই ক্লিনিক বন্ধ করে ব্যাংকের কাজে উপজেলা সদরে এসেছি।
নোয়াগাও কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ারপ্রোভাইডার মানবেন্দ্র দাস জগন্নাথপুরে রয়েছেন বলে জানান।   
মেঘারকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী কিংশুক দাস জানান, আমি মাঠে রয়েছি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্য দুই কর্মী কী কারণে আসেন নি আমার জানা নেই।
ভূরাখালি কমিউনিটি ক্লিনিকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারি স্বরজিত দাস জানান, অন্য কাজ থাকায় ক্লিনিকে যেতে পারিনি। এছাড়াও অন্য একটি ক্লিনিকের দায়িত্ব থাকায় প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। অধিকাংশ ক্লিনিকই দিনের পর দিন বন্ধ থাকে।  গত তিন মাস ধরে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের পাড়ারগাঁও কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে লোকবল সংকটের কারণে।
অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ স্বাস্থ্য কর্মীরা সেবা না দিয়ে বেতন তুলছেন। অনেকে আবারও শুধু হাজিরা দেখিয়ে বেতন উত্তোলন করছেন।
গত বুধবার (১২ জুলাই) সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন জগন্নাথপুর উপজেলা পরির্দশনকালে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নোয়াগাও কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ পান। এ ঘটনায় তিনি ৪ জন স্বাস্থ্য কর্মীকে শোকজ করেছেন। শোকজ প্রাপ্তরা হলেন, স্বাস্থ্য পরির্দশক আশিষ দে, সহকারি স্বাস্থ্য পরির্দশক আবদুল জলিল, কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মানবেন্দ্র দাস ও স্বাস্থ্য সহকারি কৈশুক দাস।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইতে সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস জানান, সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ দায়িত্ব পালন না করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে ৪জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কারণ দর্শানোর লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।  

  • [১]