- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ঈদবাজারে ক্রেতাদের ঢল

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে। হাট বাজারগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনাকালে এবারের ঈদ বাজারে রেডর্ক সংখ্যক নারী ক্রেতাদের ঢল নেমেছে ফুটপাত থেকে সুরম্য মার্কেটগুলোতে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ বছর বাম্পার বোরো ফসল উৎপাদনের কারণে এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় ঈদ বাজার অন্য যে কোনো ঈদের তুলনায় এই ঈদে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। মহামারি করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঠেলাঠেলা করে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের হাট চলছে।
রবিবার সরেজমিনে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ কে সামনে রেখে কাপড়ের দোকানগুলোতে নারী পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহার, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও হাত ধোয়ার কোন বালাই নেই ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে। এমন কী দোকানগুলোতেও নেই করোনা সচেতনার কোন উদ্যোগ।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের টিএনটি সড়কের আসল ঝলক ফ্যাশনের সামনে কথা হয় বাগময়না গ্রামের তাহিদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঈদের কাপড় কিনতে এসেছেন। তিনি জানালেন, লন্ডন থেকে ঈদ উপলক্ষে বড় ভাই ঈদের কেনাকাটা করতে টাকা পাঠিয়েছেন, তাই সবাইকে নিয়ে পছন্দের পোশাক কিনছেন। করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি না থাকায় ঈদেও কেনাকাটা প্রসঙ্গে বলেন, কেউ মানছে না, তাই আমরাও মানছি না। সবকিছু তো স্বাভাবিক।
নলুয়া হাওরপারের বাসিন্দা বারুদ মিয়া বলেন, হাওরে এবার বাস্পার বোরো ফসল হয়েছে। গোলা ভরেছে ধানে। ঈদের আনন্দে সংসারের খুশি বিরাজ করছি। আর সেই খুশিতে পরিবারের লোকজনের নতুন জামাকাপড় কিনতে বাজারে এসেছি।
জগন্নাথপুর বাজার তদারক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ও বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়ায় মানুষের হাতে টাকা আছে। তাই ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। আমরা ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্য বিধি মানার কথা বললেও কেউ মানছে না।
উজ্জ্বল গার্মেন্টসের মালিক রাজন দাশ বলেন, ক্রেতাদের চাপে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করলেও ক্রেতা সন্তুষ্টিতে মানা যাচ্ছে না।
সোনালী ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখা ব্যবস্থাপক আল আমীন রাসেল বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আসছে। করোনাকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ আশানুরূপ হবে বলে মনে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আফছর উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ক্রেতাদের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে জগন্নাথপুরে ঈদ বাজার জমে উঠেছে। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, লকডাউন ও করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে ঈদের কেনাকাটায় উপচে পড়া ভীড় দুঃখজনক। সচেতন না হলে ঈদ আনন্দ মলিন হয়ে যেতে পাওে, বিষয়টি ভাবতে হবে। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।

  • [১]