স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধ। এ বছর টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের ৮২ গ্রামের কৃষকরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দাবি জানিয়ে আসছিল। তাতে সরকারের কোন দপ্তরই বাঁধ নির্মাণে কৃষকদের আশ^াস দেয়নি। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটলাই নদীর পানি সরাসরি টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবেশ করে। এতে মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামসহ টাঙ্গুয়াপাড়ের ৮২ গ্রামের কৃষকরা তাদের ফসলের হানি হবে এমন আশঙ্কায় তিনদিন দিনরাত বাঁধে কাজ করে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে নজরখালি বাঁধটি নির্মাণ করেছে এমন সংবাদে রবিবার সেখানে যান সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা, থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বুরহান উদ্দিন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রংচি গ্রামের কৃষক হাই বলেন, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সহযোগিতায় রংচি গ্রামের প্রায় তিনশত জন কৃষক দিনরাত কাজ করে বাঁধ নির্মাণ করেছি। বাঁধটি নির্মাণ করা না হলে বংশীকুন্ডা উত্তর-দক্ষিণ এ দুটি ইউনিয়নের সব বোর ধান আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতো। অথচ অনেক বছর ধরে এ বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে আসছে।
উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের আলী উছমান বাদল বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধটি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে এ অবস্থায় যদি আরও ১৫/২০ দিন থাকে তাহলে আমরা সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবো।
দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, প্রশাসনের লোকজন আমাদের পাশে না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের যে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন তাতে তিনি এলাকাতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্যে থেকেই আমাদের সবকিছু করতে হয়।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের কৃষকদের ফসল রক্ষায় তিনি সবসময়ই কথা বলে যাবেন। কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে কিছু করতে না পারলেও কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে হলেও তিনি কাজ করবেন।