স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছায় লকডাউন শুরু করেছেন গ্রাম বা মহল্লার লোকজন। প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার বাঘময়না গ্রামে এই সামাজিক উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে জেলার অনেক গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায়। জগন্নাথপুরে আরও তিনটি গ্রাম স্বেচ্ছায় লকডাউন করেছেন গ্রামবাসী। এগুলো হচ্ছে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল, গন্ধর্বপুর ও বালিশ্রী।
এদিকে শুক্রবার ছাতক শহরের বাঘবাড়ি, কালীবাড়ি ও মন্ডলীভোগকে লকডাউন ঘোষণা দিয়েছেন মহল্লাবাসী।
সুনামগঞ্জ শহরের বাঁধনপাড়াকেও শুক্রবার লকডাউন ঘোষণা করেছেন মহল্লাবাসী। করোনামুক্ত থাকতে এভাবে সামাজিক উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাঘময়না গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান সুন্দর আলী জানালেন, ওষুধ ছাড়া অন্য কোন প্রয়োজনে কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। গ্রামের শ্রমজীবী ২৫০ পরিবারকে বলা হয়েছে ঘরে থাকতে, খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে ঘরে ঘরে।
ছাতক পৌরসভার কমিশনার তাপস চৌধুরী বলেন, আমার ওয়র্ডের তিন মহল্লাবাসী নিজেদের উদ্যোগে মহল্লা লকডাউন ঘোষণা করেছেন। শহরের প্রধান সড়ক থেকে প্রবেশের পথ বন্ধ রেখেছেন। মহল্লার শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বের হলে প্রবেশের সময় জীবানুনাশক ছিটিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। অপরিচিত কাউকে বা অন্য এলাকার কাউকে মহল্লায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার বাঁধন আবাসিক এলকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট অনুপ ধর জানালেন, মহল্লায় প্রবেশের দুটি পথই বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। অন্য এলকার কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের চারটি গ্রাম স্বেচ্ছায় লকডাউন করেছেন গ্রামবাসী। আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা গ্রাম লকডাউন করে দেবার কথা ভাবছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম বলেন, এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করছি আমরা।